
মো:শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: চাঁদপুরের মতলব উপজেলার হরিনাঘাটা এলাকায় মেঘনা নদীতে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় ঝালকাঠিতে ৪ জন ষ্টাফসহ এ্যাডভেঞ্চার লঞ্চটি আটক করেছে পুলিশ। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত (শুক্রবার) রাত পৌনে ২টার দিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় অংশগ্রহণ শেষে ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় যাওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ ‘এডভেঞ্চার-৯’ নামের লঞ্চে করে নিজ জেলা ঝালকাঠিতে ফিরছিলেন। গভীর রাতে নদীতে ঘন কুয়াশা বিরাজ করছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিগামী এডভেঞ্চার-৯-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দুটি লঞ্চ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৬ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ৩০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নৌ দুর্ঘটনায় আটক ৪ জনকে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে তাদের সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নিজাম শিপিং লাইন্সের ‘অ্যাডভেঞ্চার-৯’ ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছলে বরিশাল নৌ-পুলিশ ও ঝালকাঠি থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে লঞ্চটি ও চার কর্মীকে আটক করে।
আটককৃত চারজন লঞ্চ কর্মী হলেন, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কয়য়ারচর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস মাঝির ছেলে মো. মিন্টু (২৮), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাহের গজালিয়া এলাকার খলিলুর রহমান গাজীর ছেলে মো. সোহেল (৪০), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ভরতকাঠি এলাকার ছামসুল হক হাওলাদারের ছেলে মহিন হাওলাদার (২৫) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রুপসী এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো.মনিরুজ্জামান (৪০)।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,‘দুর্ঘটনায় এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ ও নৌ পুলিশ দ্রæত লঞ্চঘাটে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। লঞ্চটি ঝালকাঠিতে নোঙর করার পর এর সারেং, সুকানি, সুপারভাইজার ও ইঞ্জিনচালক পালিয়ে যায়। তবে চারজন কেবিন বয়কে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’



