প্রতিশ্রুত অর্থ পেল মহিলা ফুটবলাররা

তিন দফা মহিলা ফুটবলারদের স্টেজে তোলা হলো। প্রতিবারই তারা মঞ্চে উঠে টাকার প্যাকেট হাতে নিলেন। আজ সোমবার অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এভাবেই আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়। সাথে আগামী এক বছর মাসিক ভাতা পাওয়ার নিশ্চয়তাও মিলেছে।
তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে দেড় লাখ টাকা করে পেলেন মহিলা ফুটবলাররা। সাথে দলের তিন কোচও পেয়েছেন সমান অর্থ। স্থানীয় একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিকেলের এই সংবর্ধনা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য, যা তাদের চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে যাওয়ার পথে।
চ্যাম্পিয়ন হলে বাংলাদেশ দলকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছে ওয়ালটন। আগামীকাল এ অর্থ দেয়া হবে। গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর যা দেয়ার ঘোষণা ছিল, সেটাই দেয়া হলো আজ।
সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস, কল্ডঅয়েল ডেভেলপার্স ও জেমকন গ্রুপ ৫০ হাজার করে নগদ টাকা দেয় প্রত্যেক খেলোয়াড়কে। এ ছাড়া এসএস সলিউশন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলের প্রত্যেক সদস্যকে মাসিক ভাতা দেয়ার ঘোষণা দেয়। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের মেয়ের প্রতিষ্ঠান এই এসএস সলিউশন।
অনুষ্ঠানে বাফুফের তালিকাভুক্ত ক্লাব কর্মকর্তা, বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি ডিরেক্টর নাইমুর রহমান দুর্জয় উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আসরে বাংলাদেশের গোলগুলো দেখানো হয়।
বক্তৃতায় কাজী সালাউদ্দিন মেয়ে ফুটবলারদের উদ্দেশে বলেন, এ দিনটি মহিলা ফুটবলারদের জন্য। তোমাদের সাফল্যে সবাই খুশি। তবে এখন তোমাদের দায়িত্ব বেড়ে গেল চূড়ান্ত পর্বে আরো ভালো করার ব্যাপারে। তোমাদের জীবন এখন থেকে শুরু। একজন ফুটবলার হিসেবে বলছি দেশকে আরো গর্বিত করো।
এই মেয়েদের নিয়ে গর্ব করার কথা জানান, কল্ডঅয়েলের কর্মকর্তা খায়রুল মজিদ মাহমুদ, সাইফ পাওয়ারের তরফদার রুহুল আমিন ও জেমকন গ্রুপের কাজী ইনাম আহমেদ।
ক্যাম্পে যোগ দেয়ার জন্য মহিলা ফুটবলাররা আরো আগেই ঢাকায় আসে। আজ সকালে ঢাকায় আসেন তাদের পিতা-মাতারা। বাফুফেই তাদের আনার ব্যবস্থা করে। প্রায় সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান।
অধিনায়ক কৃষ্ণারানীর বাবা বাসুদেব সরকার পেশায় দর্জি। বয়সের ভারে এখন এ পেশা ছেড়েছেন। জানান, এই টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখা পড়ার খরচ জোগাবেন। মারজিয়ার বাবা আবু মোতালেবের বক্তব্য, এ টাকা দিয়ে গরু-বাছুর কিনব। একই বক্তব্য তাহুরার বাবা ফিরোজ মিয়ার। কৃষ্ণারানী এই অনুষ্ঠানে তাদের অভিভাবকদের আমন্ত্রণ জানানোয় বাফুফেকে ধন্যবাদ দেন। তার মতে, এখন আমাদের চূড়ান্ত পর্বে ভালো করার দায়িত্বটা বেড়ে গেল।
বাফুফের মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ জানান, এখন টার্গেট চূড়ান্ত পর্বে সেরা তিন এ থেকে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা।




