sliderস্থানিয়

অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহবান

মুকতার হোসেন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের গাজী নবগ্রাম গ্রামের রাজবংশী পাড়ায় অচাষকৃত উদ্ভিদের পাড়া মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা মাধবীলতা নারী সংগঠনের আয়োজনে বেসরকারী গবেষণা ধর্মী প্রতিষ্টান বারসিক’র সহযোগিতায় পাড়ামেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মেলায় স্থানীয় মাধবীলতা নারী সংগঠনের ৩০ জন সদস্য ৩০টি অচাষকৃত উদ্ভিদ সংগ্রহ করে দৃষ্টনন্দন ষ্টল প্রদর্শন করেন। মেলায় ষ্টল পরিদর্শনে আগত তরুন শিশু যুব শিক্ষার্খী প্রবীন মানুষ সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মেলা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয় মাধবীলতা নারী সংগঠনের সভাপতি প্রজা রাজবংশী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাড়া মেলায় প্রজা রাজবংশী সর্বোচ ১৪০ ধরনের অচাষকৃত ষ্টলে প্রদর্শিত করেন।

অচাষকৃত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য রয়েছে কলমী শাক, বৈথা, ওলট কম্বল,কালা কচু, আজারা কচুর লতি, বড় কলমি, ঢেঁকিশাক, খারকুন, টেকা খারকুন, দুধ কচু, গুলাল পাতা, কল্পনাথ, বাসক, তেলাকুচ পাতা, ভাদাইল, মটমটি, বউটুনি, গোড়া হেচি, গোল হেনসি, ফুল হেচি, হরহরি চুতরা, পাথরকুচি, দূর্ব্বা, জল হেচি জল পানা/কচুরি পানা, তামাকটুলী, সোনাতুলী, আগড়া, শাপলা ফুল, ঘাওপাতা, চিনিগুড়া, কাঁটাখুরা, খসখসা ডুমরা, আদারী কচু, কেশুরজা, হাতিশুঁড়া, পাহাড়ি জঙ্গল, বিশজারণ, ছিটকী, জোহানী পাতা, তৈল কন্টু, শোল পাতা, ভেন্না, কানাইলা/কানিলা, পিপল, বাকশা, ভাটি, বিলাই এচড়া, ডেমি/গিমা, নুনকুটে, চেরচেরী, গইচা, কৈটুরা, নাকফুল, জগডুমড়া, করচা, দণ্ডকলস, বেরাটি, মরিচ গাছ, টব বাগুন/তিত বেগুন, লাল মধু, শন, বিষকাটালী, হামা ঘাস, খেলনা কপি, সাদা ফুল, মাইক ফুল, রূপি, ইচাঝুরি শাক, খেতা শাক, ছোবা ঘাস, পাট মাদারী, গন্ধফুল, বিন্না, তেতুলা পানা, মালঞ্চশাক ইত্যাদি।

এ সকল অচাষকৃত উদ্ভিদ চাষ বা পরিচর্যা করতে হয় না। যা আপনা আপনি বাড়ীর আশে পাশে, আলার পালানে, জমির আইলে, বাড়ির ভিটায়, রাস্তার পাশে দিয়ে জন্ম নেয়। কোন ধরনের রাসায়নিক সার বিষ প্রয়োগ হয় করা বলে এই উদ্ভিদ পরিবেশ বান্ধব ও নিরাপদ খাদ্য হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত । এই উদ্ভিদের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে, যা খাবার হিসেবে, কখনো রোগ নিরাময়ে ও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মানুষের জন্য এই অচাষকৃত উদ্ভিদ যেমন একদিকে নিরাপদ খাদ্য অপর দিকে রয়েছে এর বিশেষ ঔষুধি গুন। অচাষকৃত উদ্ভিদের এই পুষ্টিগুন ও উপকারিতা এর সংরক্ষণ ও ব্যবহারের র্চ্চা টিকিয়ে রাখার জন্য জনসচেতনতা তৈরিতে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে আলোচনা সভায় অনুষ্টিত হয়। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন, মাধবীলতা সংগঠনের সভাপতি প্রজা রাজবংশী, সদস্য মায়া রাজবংশী বারসিক প্রোগ্রাম অফিসার কমল দত্ত, গাজী শাহাদত হোসেন বাদল।

আলোচক বৃন্দরা বলেন অচাষকৃত উদ্ভিদ আমাদের টিকে থাকার খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে । তাই আমাদের এই অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষনে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে । বিশেষ করে যে শাক সবজি বা খাদ্য উদ্ভিদ রয়েছে সেগুলো যেন আর নষ্ট না হয় তার প্রতি আমাদের যত্নশীল হতে হবে। তরুন প্রজম্নের যারা রয়েছে তাদের অচাষকৃত উদ্ভিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আগামীদিনে এর গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আয়োজক বৃন্দগণ আশা ব্যক্ত করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button