Uncategorized

রোনাল্ডোর মিশন সেঞ্চুরি

বুধবার তার প্রথম ক্লাব স্পোর্টিং সিপি’র (ক্লাব পর্তুগাল) বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার অভিযান শুরু করার আগে স্মৃতিমেদুরতায় আচ্ছন্ন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
আগে এই ক্লাব স্পোর্টিং লিসবন নামে পরিচিত ছিল। এটাই ইউরোপে রোনাল্ডোর প্রথম বড় ক্লাব। এখান থেকেই ২০০৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তাকে কিনে নিয়ে চলে যান ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ফার্গির হাতে কাচ কাটা হীরেতে রূপান্তরিত হন সিআরসেভেন। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে ২০০৮ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাড়ি দেন রোনাল্ডো। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি জিতেছেন আরও দু’টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব। পুরানো ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষাতে গোল করার অভিনব রেকর্ড রয়েছে পর্তুগিজ মহাতারকাটির। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল করার ব্যাপারে তার সাফল্য প্রশ্নাতীত। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তিনি এখন অবধি টপ স্কোরার। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিও মেসিকে দশ গোল পিছনে ফেলে রোনাল্ডো এখন ৯৩টি গোলের মালিক। ২০০৭-০৮ মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড এবং স্পোর্টিং ক্লাব পর্তুগাল একই গ্রুপে পড়েছিল। সেবার ম্যান ইউ জিতেছিল ইউরোপ সেরার খেতাব। দু’টি গ্রুপ ম্যাচেই ফার্গুসন-ব্রিগেড স্পোর্টিংকে হারিয়েছিল যথাক্রমে ১-০ এবং ২-১ গোলে। দ্বিতীয় লেগে সংযোজিত সময়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে বুলেট ফ্রি-কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেছিলেন রোনাল্ডো।
২০১২-১৩ মরশুমে রিয়াল মাদ্রিদ নক-আউট পর্বে (রাউন্ড অব সিক্সটিন) ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয়। দুই পর্বেই গোল করেছিলেন সিআরসেভেন। রিয়াল ৩-২ গোলের গড়ে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে উন্নীত হয়েছিল। এবার তাঁর সাফল্যের ত্রিভুজ পূর্ণতা লাভ করতে চলেছে, এমনই মনে করেন রোনাল্ডো।
সম্প্রতি উয়েফার সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফিফার বর্ষসেরা ব্যালন ডি’ওর তার কপালেই নাচছে। স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে নামার প্রাক্কালে রোনাল্ডো উয়েফার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানালেন, ‘এটা আমার কাছে স্পেশাল ম্যাচ। আমার দেশ পর্তুগালের ফুটবলপ্রেমীরা এই ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে থাকবেন। স্পোর্টিং আমার প্রথম ক্লাব। তাই আলাদা অনুভূতি রয়েছে। এবার ওদের দল বেশ ভালো। আরও দুই পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা এবং এফসি পোর্তোরও মুখোমুখি হয়ে সাফল্য পেয়েছি। তবু বলব, স্পোর্টিংয়ের এই ম্যাচটি খেলার আগে আমার বিশেষ অনুভূতি হচ্ছে।’
রোনাল্ডোকে প্রশ্ন করা হয়, এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং লেজিয়া ওয়ারশ সম্পর্কে কী বলবেন? পর্তুগিজ অ্যাটাকারটি বলেন, ‘দুটোই কঠিন প্রতিপক্ষ। এর আগেও আমরা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিরুদ্ধে খেলেছি। একটি পর্বে রিয়াল মাদ্রিদ হেরেও গিয়েছিল। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষত ডর্টমুন্ডে সিগনাল-ইডুনা পার্কে ওদের হারানো বেশ কঠিন।
কারণ, ওখানে ওরা প্রচণ্ড দর্শক সমর্থন পেয়ে থাকে। তবে আমি লেজিয়া ওয়ারশ’র বিরুদ্ধে কখনও খেলিনি। পোল্যান্ডের সেরা দল এটি। আর পোলিশ ফুটবলের মান যথেষ্ট উন্নত। ওদের সঙ্গে খেলাটা হবে এক নতুন অভিজ্ঞতা। তবে রিয়াল মাদ্রিদের এবার যা টিম তাতে গ্রুপ পর্বের ছ’টি ম্যাচেই জেতা উচিত।’ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চালু হওয়ার পর থেকে কোনও ক্লাব পরপর দু’বার খেতাব জেতেনি। এবার কি সেই বরফ গলাতে পারবে রিয়াল মাদ্রিদ? ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে শেষবার এসি মিলান টানা দু’বার ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল গুলিট-ফন বাস্তেন-রাইকার্ড-আনসেলোত্তিদের আমলে। এই প্রসঙ্গ রোনাল্ডোর সামনে তোলা হলে তিনি বলেন, ‘এটা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এবার আমাদের যা দল তাতে আবার ইউরোপ সেরা না হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খুব কঠিন প্রতিযোগিতা। আপনাকে ন’মাস ধরে ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তবে আমরা চেষ্টা করব। আমাদের কোচ জিনেদিন জিদান বলেছেন, ম্যাচ বাই ম্যাচ এগতে হবে। প্রথমে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি নিয়ে হোম-ওয়ার্ক করেছেন তিনি। কারণ, নক-আউট পর্বে কাদের বিরুদ্ধে খেলতে হবে সে ব্যাপারে এখন আমরা কিছুই জানি না। কিন্তু পজিটিভ চিন্তাভাবনা নিয়ে এগতে চাই।’
এরপরে রোনাল্ডোর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগালের প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্পর্কে। সিআরসেভেন অকপটে স্বীকার করে নেন, ‘নিজের দেশকে একটা ট্রফি দিতে আমি মরিয়া ছিলাম। তাই চোট-আঘাত অগ্রাহ্য করে মাঠে নেমে সেরা পারফরম্যান্স উজাড় করে দেয়ার চেষ্টা করেছি। ২০১৬ সালটা এখন অবধি আমার কেরিয়ারে সেরা সাফল্যের বছর। এবার প্রথম ফুটবলার হিসাবে গোলের সেঞ্চুরি করে ফেলতে চাই।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button