sliderস্থানিয়

নলছিটিতে তিন সেতু প্রকল্পে ধীরগতি, তদারকির অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে

ঠিকাদারের ভূমিকায় এলজিইডি প্রকৌশলী

মো.শাহাদাত হোসেন মনু, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে। নির্মাণকাজে ধীরগতি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং তদারকির অভাবে এসব স্থানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনদুর্ভোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তধিকারী ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লিগের অর্থ সম্পাাদক মনিরুল ইসলাম তালুকদার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর বহু সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। সেতুর পার্শ্ব সড়ক সঠিকভাবে নির্মাণ না করায় প্রতিনিয়ত গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো এলাকায় পার্শ্ব সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। তিনটি সেতুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপর এবং এ অঞ্চলের সব থেকে বড়ো তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই অবস্থিত এসব সেতু। দীর্ঘদিন ফেলে রাখা নির্মাণাধীন সেতুর রডে মরিচা ধরে গেছে। পরবর্তীতে সেগুলো পরিষ্কার না করেই যদি ঢালাই দেওয়া হয়, তাতে সেতুর স্থায়িত্ব কমে যাবে বলে অভিযোগ এলাকাবাসির।

স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদাররাও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, নলছিটির প্রায় সব বড় প্রকল্পের কাজ করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির কথিত “আমু পুত্র” জেলা আওয়ামী লিগের অর্থ সম্পাাদক মনিরুল ইসলাম (মনির হুজুর)। যিনি বর্তমানে বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে প্রকল্পগুলোর দেখভাল করছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবীর নিজেই।

কুশঙ্গল ইউনিয়নের সরমহল হাসেমিয়া মুজাহিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে বিষখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। সম্প্রতি সংযোগ সড়কে খোয়া ফেলা হলেও বর্ষার পানিতে নিচ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ইতোমধ্যে সরমহল মাদ্রাসার সামনের সেতুর পাইলিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে।।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা পাইলিং, যথাযথ গভীরতায় ব্লক বসানো না হওয়ায় এবং সড়কে ঢাল না রাখায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাজ শেষ না হলেও আগাম বিপদের শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গোপ্তের খালের ওপর নির্মিতব্য সরমহল-পুনিহাট সেতু পার্শ্ব সড়কের অভাবে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ। এক বছর আগে এই সেতুর কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ। এলাকাবাসীর প্রধান চলাচলের পথ হওয়া সত্ত্বেও এখানে ঠিকঠাক পার্শ্ব সড়ক তৈরি করা হয়নি। ঈদের আগে স্থানীয়রা নিজেরাই মাটি ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য পথ তৈরি করেন। বর্ষা শুরু হতেই সেটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রæত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
বোনমাইল খালের ওপর নির্মাণাধীন ফয়রা মাদ্রাসা সংলগ্ন সেতু দুই বছরের বেশি সময়েও ১০% কাজ হয়নি। এই সেতুর কাজ শুরু হয়েছে দুই বছরের বেশি সময় আগে, কিন্তু অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ। আশপাশের চারটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখনো বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। নেই কোনো বিকল্প পার্শ্ব সড়ক। স্থানীয়রা জানান, রোগী, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ সবাই প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছেন।

এই তিনটি প্রকল্প নিয়েই স্থানীয়রা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবীরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ঠিকাদার মনিরুল ইসলাম “আমু পুত্র” হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাবাসির। তদারকির অভাব, তথ্য না দেওয়া এবং অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল হয় এই প্রকৌশলীর কিন্তু সাবেক এমপি আমির হোসেন আমুর প্রিয়ভাজন হওয়ায় ৫ আগস্টের পরে তার বিরুদ্বে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্টতার সংবাদ মিডিয়াতে প্রকাশ পেলেও সরকার পতনের পরেও বহাল তবিয়তে স্বপদে আছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবীর। তার খুটির জোরে নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবীর জানান,“কালকে দেবো।” ঠিকাদার সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, “তিনি বিদেশে আছেন।” বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে বলেন বলছিতো কালকে করে দেবো। তার এমন দায়সারাভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তিনি প্রকৌশলী না ঠিকাদার!

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা বলেন,সরকারি অর্থে নির্মিত এসব প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, তদারকির অভাব ও গাফিলতির কারণে প্রতিনিয়ত জনভোগান্তি বাড়ছে। দ্রæত কাজ শেষ, নির্মাণ কাজের মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button