sliderস্থানিয়

সাটুরিয়ায় শ্রম কেনা বেচার হাট, ১২ শত টাকায় মিলছে না শ্রমিক

রাসেল আহমেদ, সাটুরিয়া প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় শ্রমিকের হাটে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে শ্রম। ভোরের আলো ফুটে উঠার আগ থেকেই শ্রমজীবী মানুষ ছুটে আসেন হাটে। চোখমুখে তাদের অসহায়তার ছাপ। যাদের শ্রম বিক্রি করে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে দরকার কিছু টাকার। হাটটিতে কিছু মানুষ আসেন নিজেদের শ্রম বিক্রি করতে, আরেক শ্রেণির মানুষ আসেন তাদের শ্রম কিনতে। চলতে থাকে দরদাম, পণ্যের মতোই মৌসুম বিবেচনায় তাদের দামও ওঠানামা করে। প্রচন্ড তাপদাহে শ্রমের বাজার বেশ চড়া।

এমনি এক হাট হচ্ছে সাটুরিয়া-ধামরাই উপজেলার পশ্চিম নান্দশ্বরী এলাকার ডাচবাংলা ব্যাংক সংলগ্ন। দীর্ঘদিনের এ হাটে প্রতিদিন বসে গেরস্থের ধানকাটার শ্রমিক। গৃহস্থদের অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করার চুক্তিতে কাজে নিচ্ছে, আবার অনেকেই দৈনিক হাজিরা ভিত্তিত্বে কাজে নেয়। সারাবছর চলে এ হাট। ধান কাটার মৌসুমে দূর দূরান্ত থেকে জড়ো হয় শ্রম বিক্রি করতে। স্থানীয় ভাষায় এই হাটকে কামলার হাট বলা হয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে নিজেদের যেন এভাবেই বেচে দেন তারা!

সরেজমিনে এ শ্রমিক হাট ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, নাগরপুর, টাঙ্গাইল, সহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে শ্রমিক জড়ো হন। প্রতিদিন শতশত শ্রমিক বেচাকেনা হয়ে থাকে। এবারে হাজার ১২ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে একেকজন শ্রমিক। সঙ্গে তিন বেলা খাবার এবং যাতায়াত ভাড়া। বেচাকেনা পর ওই সব শ্রমিক চাষীর সঙ্গে বাড়ী যাচ্ছেন।

সাটুরিয়া সদরের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার সরকার বলেন, আমার ২/৩ বিঘার ধান কাটার জন্য শ্রমিক নিতে এসেছি। কিন্তু প্রচন্ড গরমের কারনে শ্রমিক সংকট, যারা এসেছে বার্তা টাকার নিচে যেতে চাচ্ছে না। শ্রমিকের মজুরী অনুযায়ী ধানের মূল্য তেমন না। জমি চাষ করা কষ্টসাধ্য।

নাটোর থেকে আসা জমির আলী শ্রমিক বলেন এ সময়ে আমাদের এলাকায় কাজ কম। যে কাজ আছে তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চলে না। তাই এ এলাকায় ধানকাটা কাজের সন্ধানে এসেছি। কয়েকদিন আগেও ৭/৮ শত করে কাজ করেছি। আর যেভাবে গরম পড়েছে কাজ করতে জীবন বের হয়ে যায়। দুটো পয়সার জন্য বিদেশ বিভূঁইয়ে এসেছি।

কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৫ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৩ শ হেক্টর।

কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ৫০ ভাগ ভর্তুকিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে, হারভেষ্টার মেশিন গুলো অন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় ধান কাটতে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যা কেটে যাবে। এখন যে আবহাওয়া বিরাজ করছে তা ধান কাটার জন্য উপযুক্ত । আশা করা যাচ্ছে বড় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ছাড়াই সাটুরিয়ার কৃষক ধান গোলায় উঠাতে পারবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button