sliderস্থানিয়

বোয়ালমারীতে ৮ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে পাটচাষীদের সর্বনাশ

তৈয়বুর রহমান কিশোর, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শিলাবৃষ্টিতে কৃষকদের পাট, বোরো ধান ও তিলসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইলা রানী। এর আগে সোমবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ ৮-১০ মিনিট বৃষ্টির সাথে ব্যাপক শিলা বর্ষণ হয়। এতে অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে এই এলাকার চাষীদের।

বোয়ালমারী উপজেলায় শিলাবৃষ্টি পড়ায় ৩ হেক্টর জমির পাট এবং ০.১৮ হেক্টর জমির বোরো ধান শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও তিল ও মরিচেরও ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নয়নীপাড়া ও উমরনগর এবং শেখর ইউনিয়নের দূর্গাপুর ও তেলজুড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাট, ধান, তিল ও মরিচের ফসল। এসব ফসলের মধ্যে শিলাবৃষ্টিতে পাটের ডগা ভেঙে পড়ে গেছে মাটিতে। এছাড়া কাঁচা-পাকা অবস্থায় থাকা বোরো ধান জমিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমিতে ধানের শীষ ভেঙে পড়েছে। এসব কারণে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। চাষীরা অনেকেই এনজিও থেকে লোন নিয়ে এবং জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন।

স্থানীয় কৃষক ইউসুফ শেখ বলেন, সোমবার জোহর নামাজ শেষ হতেই আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সাথে ৮ থেকে ১০ মিনিট শিলা পরে। বৃষ্টি থামলে ক্ষেতে গিয়ে দেখি ক্ষেতের পাটের বেশি অংশের মাথা ভেঙ্গে গেছে এবং নুইয়ে পড়েছে। আমি, আমার ভাই ও বাবা মিলে ১৯ পাখি জমিতে পাট চাষবাস করেছি। ক্ষেতের ফসলের প্রায় সব পাটের আগা ভেঙে শেষ হয়ে গেছে। এমন ক্ষতি হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকাই কষ্ট। এখন এই জমিতে অন্য ফসল আবাদেরও সুযোগ নেই।

আরেক চাষী মান্নান শেখ বলেন, ৮ পাখি জমিতে পাট আবাদ করেছিলাম। আবাদে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সব শেষ হয়ে গেছে। টাকাও গেলো, ফসলও গেলো। এই ফসলের উপর ভরসা করেই সারা বছরের সংসার খরচ, সন্তানদের পড়ালেখা চলে। ধার দেনা করে আবাদ করেছিলাম।

আরেক চাষী আরশাদ মোল্লা বলেন, গতরাতে ক্ষেতের চিন্তায় দুই চোখের পাতা এক করতে পারি নাই। এনজিও থেকে ঋন নিয়ে পাট এবং ধানের আবাদ করেছিলাম। আর কিছুদিন পর ধান ঘরে তুলবো এমন সময় এমন ক্ষতি হয়ে গেলো। ধানের কিছু অংশ বিক্রি করে দেনা শোধ করতে চেয়েছিলাম আর বাকি অংশ নিজেরা খেয়ে বাঁচতাম, এখন সবই শেষ হয়ে গেলো।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইলা রানী জানান, শিলা বৃষ্টির পরেই ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নিয়ে পাট ও ধানের ক্ষেত পরিদর্শন করা হয়েছে। এ উপজেলার গুনবহা, শেখর, পৌরসভার আংশিক ও সদর ও চতুল ইউনিয়নে পাট, ধান ও তিল ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকার কাজ চলছে। তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: শাহাদুজ্জামান বলেন, বোয়ালমারী উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে ৩ হেক্টর জমির পাট আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় আগাম পাটের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে পাট ছোট থাকায় ক্ষতির পরিমান কম হয়েছে। ক্ষতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। দ্রুত ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই মোতাবেক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button