পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা নাগরিকদের জীবন মান উন্নত করতে পারে নাই। তিনি শনিবার চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানায় আমার বাংলাদেশ পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার আহ্ববায়ক মোঃ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা ও শ্যাডো এ্যাফেয়ার্স বিষয়ক সম্পাদক ও কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমাদের দেশে কখনো রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল ছিল না। আপনারা যদি দেখেন বাংলাদেশে ৫২% নারী অথচ স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও মা-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে হয়। স্কুল পড়ুয়া মেয়েদেরকে হেনস্থা শিকার ও লাঞ্ছিত হতে হয় । তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় গত ৫৩ বছরে আমরা কেমন রাষ্ট্র তৈরি করলাম, যেখানে আমার মা-বোন ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আওয়াজ তুলতে হচ্ছে! অথচ এই অপরাধগুলোর সাথে জড়িতরা অধিকাংশই রাজনীতির সাথে জড়িত, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোরই উচিৎ ছিলো আপরাধীদেরকে নয় বরং এদেশে নাগরিক ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু উল্টো রাজনৈতিক দলগুলো অপরাধীদেরকে তাদের দলের নেতা কিংবা ব্যানারে আশ্রয় দিচ্ছে । এই বাস্তবতায় এদেশের মানুষের কাছে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে, যে এদেশে বিগত ৫৩ বছরে রাজনীতির নামে যা হয়েছে তাকে রাজনীতি বলা যায় না । এসময় তিনি চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া ও তীব্র পানি সমস্যা তুলে ধরে বলেন, সর্বোচ্চ শীত ও গরমে এই জেলার মানুষ ভুক্তভোগী। মাথাভাঙ্গা, কুমার ও আত্রায় নদী সহ অন্য নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। অথচ রাজনীতিবিদদের কাজ ছিল এই প্রশ্ন তোলা যে, কেন এই নদীগুলো শুকিয়ে গেছে? জেলেরা মাছ ধরতে পারে না বা কৃষকরা পানির অভাবে সেঁচ দিতে পারছে না । অথচ খাল কেটে শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোকে জীবন্ত করা সম্ভব ছিল যা অতীতে আমরা জিয়াউর রহমানের সময় দেখেছি খাল কাটার কর্মসূচি। তাই আমরা বোধ করি যে, কৃষকের পানির কষ্ট দূর করাই হচ্ছে রাজনীতি, যা বিগত দশকগুলোতে চুয়াডাঙ্গাতেও সেই দায় দরদের রাজনীতি জনগণ দেখেন নি। তাই এবি পার্টি মনে করে প্রাণ, পরিবেশ প্রকৃতি ও আমার নদী বাঁচিয়ে রাখার যে আয়োজন সেই আয়োজনই হচ্ছে রাজনীতি । আপনাদের জীবন সহজ করাই হচ্ছে রাজনীতি । নাগরিকদের ভোগান্তি দূর করার রাজনীতির মাধ্যমে এই বাংলাদেশকে একটা কল্যাণ রাষ্ট্র বানাতে চাই যেখানে নাগরিকদের জীবন-মান আরামদায়ক করাই হবে আমাদের উদ্দেশ্য।
এছাড়াও তিনি চুয়াডাঙ্গায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক কৃষকদের ফসল কাটতে না দেওয়া, গরু ছাগল চুরি ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কেন বিজিবি তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না ? কেন রাজনীতিবিদরা এই সব বিষয়ে কথা বলে না? এই জেলার উপজেলাগুলো হাসপাতালে ডাক্তার-নার্স নাই । প্রসূতি মায়েদেরকে কেন সরকারী হাসপাতালের সামনে বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হতে হবে ? কেন ব্রিটিশ আমলে চুয়াডাঙ্গায় প্রথম রেল স্টেশন হওয়া পরও এত বছর পরে কেন সমগ্র জেলাতে রেল ব্যবস্থা উন্নত হয়নি? কেন ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গায় ২৩০ কিলোমিটারের পথ রেলে আসতে ৫-৬ ঘন্টা লাগবে ? কেন টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হয়ে যাবে ? এই প্রশ্নগুলোর সমাধান বের করে জনগণের কাছে সেবার রাজনীতি পৌঁছে দেওয়ার কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যদি এই সেবা ও সমস্যা সমাধানের নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি শুরু না হয় তাহলে প্রত্যেকটি সমস্যার জন্য আমাদের সবাইকে ভুক্তভোগী হতে হবে যেমনি মাদক ও বেকারত্বের ক্ষেত্রে এই চুয়াডাঙ্গা জেলার সবাই কম বেশি ভুক্তভোগী। এজন্য সরকারের কাছে তিনি কৃষক ও বেকারদের জন্য বিনা সুদে ক্ষুদ্র ঋণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবী তুলে ধরেন ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এবি পার্টি কাজ করে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার নাগরিকরা সত্যিকার নাগরিক হয়ে উঠলে এই এলাকার জীবনমান উন্নিত হবে।
এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান বলেন, আগামীর রাজনীতি জনগণের সেবা, জনগনের সমস্যা সমাধান ও অধিকারের রাজনীতি। এই রাজনীতিই বাংলাদেশ ২.০ এর রাজনীতি। এই রাজনীতিই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ।
মোঃ মাহাবুর রহমানের উপস্থাপনায় উক্ত মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ইয়ামিনুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এস এম আক্তারুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা জেলার সদস্য সচিব আলী রুশদী মজনু, যুগ্ম-সদস্য সচিব এস এম রেদওয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শামীম আক্তার, মোঃ সোহেল মিয়া সহ আরো অনেকে ।



