বেহায়াপনার স্থান হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর জাভান হোটেল, রাতভর চলে অশ্লীল নৃত্য, মদপান ও জুয়া
ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ প্রথম পর্ব

গোলাম কিবরিয়া : গাজীপুরের টঙ্গীর বেহায়াপনার স্থান হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর জাভান হোটেল।
চার তারকা মানের এই হোটেলটিতে রাতভর চলে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের অশ্লীল নৃত্য, মদপান, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে টঙ্গী ও আশপাশের উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবকরা। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। র্যাব- পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একাধিকবার হোটেলটিতে অভিযান পরিচালনা করলেও বন্ধ হয়নি এসব অপকর্ম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েতের স্থান ‘বিশ্ব ইজতেমা’ ময়দানের মাত্র দু’শ গজ দূরে তৈরি হয়েছে এই বিঁষফোড়া (জাভান হোটেল)। শেখ বাদল আহমেদ হোটেলটির মালিক। নিজের ছেলের নামে নামকরণ করেন হোটেলটি। প্রথম দিকে শিল্প শহর গাজীপুরের বিভিন্ন গার্মেন্টসের বায়ারদের থাকার জন্য উন্নত মানের একটি হোটেল দরকার এমন প্রয়োজনীয়তা থেকে হোটেলটি প্রতিষ্ঠা করার দাবী করা হলেও আদতে হোটেলটি একটি বেহায়াপনার স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। একটি চার তারকা হোটেল পরিচালনার জন্য যে সকল কাগজপত্র থাকার কথা তা নেই কতৃপক্ষের কাছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শেখ বাদল আহমেদ হোটেলটি পরিচালনা করছেন।
জাভান হোটেলের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে কেরু এ্যান্ড কং এর লাইসেন্স রয়েছে। অথচ হোটেল কতৃপক্ষ দেদারসে বিদেশি মদ এবং বিয়ার বিক্রি করছে। হোটেলের বারে শুধুমাত্র মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত গ্রাহকদের মদপানের অনুমতি থাকলেও লাইসেন্স ছাড়াই চলে রাতভর মদপান। সন্ধার পর থেকে সিএনজি ও প্রাইভেট গাড়ি যোগে জাভান হোটেলে আসতে শুরু করে তরুণীরা। হোটেলের দশম তলায় রাত ৮টার পর থেকে শুরু হয় অশ্লীল নৃত্য। মদ্যপ ব্যক্তিরাও নাচের তালে লাখ লাখ টাকা উড়িয়ে দিচ্ছে প্রমোদবালাদের দিকে।
এছাড়াও হোটেলের রুমগুলোতে চলে রাতভর জুয়ার আসর। এসব জুয়ায় ঢাকা ও আশপাশের বড় বড় জুয়ারিরা অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও হোটেল রুমে চলে ইয়াবা সেবনও। হোটেলের ভেতরেই পাওয়া যায় ইয়াবা। আর এসব অপকর্মের কারণে বলি হচ্ছে তরুন ও উঠতী বয়সের কিশোররা।
এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার হোটেলটিতে অভিযান পরিচালনা করলেও পূনরায় আবারও শুরু হয় অসামাজিক কর্মকাণ্ড। এলাকার স্থানীয়দের দাবী দ্রুত হোটেলটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।




