জাতীয়শিরোনাম

ঈদে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়

ঈদে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে।
ঈদের দিন সকাল থেকেই শাহবাগের কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক ছিল লোকে লোকারণ্য। শিশুদের পদচারণায় মুখর ছিল এই পার্ক। রাইডে রাইডে চড়ে সময় কাটিয়েছে শিশুরা। আনন্দে মেতে উঠেছিল তারা। মা-বাবাও তাদের সন্তানদের আবদার মিটিয়েছেন।
আজিমপুর থেকে বাবার সাথে শিশুপার্কে ঘুরতে এসেছে স্কুলছাত্র শুভ্র। সে বলে, আব্বুর সাথে শিশুপার্কে এসেছি। আজ শিশুপার্কে ঘুরতে আসতে চাইলে তিনি বাধা তো দেনই নি বরং সাথে করে নিয়ে এসেছেন।
শুভ্রর বাবা এমরান হোসাইন শেখ বলেন, প্রতিদিন তো কর্মব্যস্ত থাকতে হয়। ছেলেকে নিয়ে বের হতে পারি না। ঈদের পরে ছেলের পরীক্ষা । সে কারণে আমরা এবারের ঈদে বাড়ি যাইনি। সকালে ঈদের নামাজ পড়ে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটিসহ পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল তরুণ-তরুণীদের আনন্দ উল্লাস। তাদের অনেককে সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। আবার তরুণ-তরুণীরদের কেউ কেউ গিটার নিয়ে গান বাজনা করে সময় কাটিয়েছে।
রাজধানীর হাতিরঝিল, মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, শ্যামলী শিশুমেলা, ধানমন্ডি ও সায়েদাবাদের ওয়ান্ডারল্যান্ড, সংসদ ভবন চত্বর, শেরেবাংলানগরের ক্রিসেন্ট লেক, ধানমন্ডি লেক, চন্দ্রিমা উদ্যান, বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারসহ সব বিনোদন স্থান ও স্থাপনাতে লোকসমাগম ছিল অনেক।
এমনকি ঢাকার উড়াল সেতুগুলোতে ঈদআনন্দে পায়ে হেঁটে নগরবাসী উল্লাস করেছেন। এসব উড়ালসেতু ছিল বলতে গেলে ফাঁকা। মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আপনজনকে পাশে নিয়ে কেউ সেলফি তুলেছেন । নগরীর জায়গায় জায়গায় চটপটির দোকান বসে। তাতেও ছিল ভিড়। খাবারের দোকানে গল্পগুজব আর আড্ডাও জমে ওঠে।
শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বয়োবৃদ্ধরাও ছিলেন ছুটির আমেজে। অনেকেই সপরিবারে বেড়াতে বের হন। মিরপুর চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টারগুলোয় সকাল ১০টার আগেই থেকে দর্শনার্থীদের লাইন শুরু হয়ে যায়। বিনোদন প্রত্যাশীরা দীর্ঘ লাইন পেরিয়ে টিকেট কাটেন। তারপর চিড়িয়াখানায় পশুপাখীর সাথে সময় কাটান।
ঢাকা নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা হাতিরঝিল প্রকল্পে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য হাজারো মানুষের ঢল নামে। এ ছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড ও হানিফ ফ্লাইওভারও যেন বিনোদনের অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে।
বিনোদন-প্রেমীদের উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করতে অস্থায়ী খাবার দোকান বসে। আকর্ষণ বাড়াতে আশেপাশে বসা রাইডগুলোতে ছিল মূল্য ছাড়।
এদিকে রাজধানীর অদূরে দেশের একমাত্র থিমপার্ক আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দনপার্ক এবং মিনি চিড়িয়াখানায় ছিল লাখো দর্শনার্থীর ভিড়। এখানকার নতুন রাইডসহ প্রতিটি রাইড কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। বিভিন্ন বয়সীরা উপভোগ করেছেন তাদের পছন্দসই রাইড। ওয়াটার কিংডমে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নগর জীবনের কোলাহল থেকে একটু বিনোদনের আশায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই ছুটে এসেছেন এসব বিনোদন পার্কে। এখানে ছুটে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বিধান ও তাদের বিনোদনের পরিবেশ বজায় রাখার সর্বাত্মক নজরদারী ছিল।
ঈদের ছুটি শেষে নগরবাসী আবারো ফিরবে গতানুগতিক কোলাহলময় যান্ত্রিক জীবনে। তাই এ ঈদের ছুটি ছিল আনন্দ উপভোগ করার দারুণ সময়। এবারের লম্বা ছুটিও যেন চোখের নিমিষে শেষ হয়ে গেল,এমন হতাশার সুরও শোনা গেল বিনোদনে মেতে থাকা নানা বয়সী মানুষের মধ্যে। এরকম বড় ছুটির জন্য আবার দিন গুণতে হবে-বললেন এক সরকারি চাকরিজীবী।বাসস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button