রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে সেমিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি

দুই ফেভারিটের ১২০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে টাইব্রেকারেও উত্তেজনা ছড়ালো ঢের। শেষ পর্যন্ত এই ‘ভাগ্য পরীক্ষায়’ ৬-৫ ব্যবধানে ইতালিকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছে জার্মানি।
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মানুয়েল নয়ারের দৃঢ়তায় শেষ হাসি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
টাইব্রেকারে প্রথম ৫টি করে নেওয়া শটে দুদলের তিন জন করে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন।
ইতালির হয়ে গোল করেন লরেন্সো ইনসিনিয়ে ও আন্দ্রেয়া বারজাগলি। ব্যর্থ হন সিমোনে জাজা, গ্রাজিয়ানো পেল্লে ও লিওনার্দো বোনুচ্চি। জাজা নেমেছিলেন শুধু টাইব্রেকারের জন্যই। এর আগে নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা এনেছিলেন বোনুচ্চি।
জার্মানির হয়ে টাইব্রেকারে জালে বল পাঠান টনি ক্রুস ও ইউলিয়ান ড্রাক্সলার। ব্যর্থ হন টমাস মুলার, মেসুত ওজিল ও বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার। শোয়াইনস্টাইগার গোল পেলে তখনই সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যেত জার্মানি।
এরপর পরের তিন শটে গোল করেন ইতালির এমানুয়েল জাক্কেরিনি, মার্কো পারলো ও মাত্তিয়া দে শিলিও। কিন্তু মাত্তেও দারমেইনের শট ফিরিয়ে দেন নয়ার।
আর টানা চার শটে গোল করেন মাটস হুমেলস, জশুয়া কিমিচ, জেরোম বোয়াটেং ও ইয়োনাস হেক্টর। হেক্টরের শট অল্পের জন্য ফেরাতে পারেননি জানলুইজি বুফ্ফন। বল তাকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে জার্মানরা।
এর আগে শনিবার বোর্দোয় সামি খেদিরার চোটে ষোড়শ মিনিটে মাঠে আসেন শোয়াইনস্টাইগার। ২৭তম মিনিটে মুলারের ক্রসে তার হেড জালেও জড়ায়। কিন্তু হেড করার আগে তিনি দে শিলিওকে ফাউল করায় বাতিল হয়ে যায় গোল।
শুরুর সতর্ক ফুটবলের পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে দারুণ জমে উঠে খেলা।
৪২তম মিনিটে দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে জার্মানি। প্রথমে কিমিচের দুর্দান্ত ক্রসে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মারিও গোমেজ। এরপর ডি বক্সে দুর্বল শট নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মুলার।
দুই মিনিট পর সুযোগ হাতছাড়া করে ইতালিও। জাক্কেরিনি নিজে শট না নিয়ে স্তেফাও স্তুরারোকে বল বাড়ান; নয়ারকে পরাস্ত করতে পারেননি ইউভেন্তুসের এই মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আলেসান্দ্রো ফ্লোরেন্সির নৈপুণ্যে বেঁচে যায় ইতালি। ৫৪তম মিনিটে গোমেজের কাছ থেকে বল পেয়ে এক ঝটকায় দুই জনকে সরিয়ে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান মুলার। প্রথমার্ধের মতো ভুল করেননি, বুলেট শটে জাল খুঁজে নিচ্ছিলেন তিনি। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে বলের জালে যাওয়া দেখছিলেন জানলুইজি বুফ্ফন। কিন্তু ছুটে এসে দারুণ স্লাইডে কর্নারের বিনিময়ে সে যাত্রা দলকে বাঁচান ফ্লোরেন্সি।
৬৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মানি। গোমেজের ডিফেন্স চেরা পাস ডি বক্সে খুঁজে পায় হেক্টরকে। তার শট ইতালির একজনের গায়ে লাগলে বল পেয়ে যান ওজিল, সুযোগ হাতছাড়া করেননি আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার।
চার মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন গোমেজ। অফ সাইড ফাঁদ ভেঙে বুক দিয়ে বল নিচে নামালেও সতর্ক বুফ্ফনকে ফাঁকি দিতে পারেননি।
৭৭তম মিনিটে ডি বক্সে বোয়াটেংয়ের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় ইতালি। বোনুচ্চি কোন দিকে শট নেবেন অনুমান করতে পেরেছিলেন নয়ার। সেই দিকে ডাইভও দিয়েছিলেন কিন্তু গতির সঙ্গে পেরে উঠেননি। সমতায় ফেরে ম্যাচ।
পেশাদার ফুটবলে এটাই বোনাচিওর প্রথম পেনাল্টি। ইতালির প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে বড় কোনো টুর্নামেন্টে গোল করলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময় এবং অতিরিক্ত সময়েও গোল পায়নি কোনো দল। তাই খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
বড় কোনো প্রতিযোগিতায় ইতালিকে কখনোই হারাতে না পারা জার্মানি টাইব্রেকার জিতে বিজয় উল্লাস করলো ঠিকই, তবে নিয়ম অনুযায়ী পরিসংখ্যানের পাতায় এ ম্যাচের ফল ড্র-ই লেখা থাকবে।
ঢাকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে এই ম্যাচে কালো ব্যাজ পরে খেলে ইতালির খেলোয়াড়েরা।
সুত্র: নয়াদিগন্ত




