
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক বলেছেন, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস নারীর শত্রু এবং নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখে। এটা নারীত্বের অপমান।
মন্ত্রী মঙ্গলবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কুড়িগ্রাম রুরাল উইমেন ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কেআরডিসি) আয়োজনে ‘অবহেলিত নারীর সংগ্রামী জীবন এবং কিছু কথা ’শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি বিউটি রানীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু কাওছার,বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান র্দূজয়, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট রেবেকা পলিনা গমেজ, সংস্কৃতি কর্মী যুঁথিকা রায় প্রমুখ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নারী পুরুষের পাশাপাশি দাঁড়াতে পারে যদি তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকার ভোগ করতে পারে। সে অধিকারগুলো হলো সম্পদ পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা পাওয়ার অধিকার, কর্ম পাওয়ার অধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোতে প্রবেশের অধিকার’।
তিনি বলেন,এই চারটি অধিকার নারী অর্জন করতে পারলেই তারা আর অবহেলার শিকার হবে না। অথচ এই চারটা অধিকার থেকে নারীরা কমবেশী বঞ্চিত।
হাসানুল হক ইনু বলেন, নারীকে একদিকে কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতা বর্জন করতে হবে। অপরদিকে সম্পদ, শিক্ষা, কর্মপাওয়ার অধিকার ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকাঠামোতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নারীর মর্যাদা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। একাজে নারী ও পুরুষ উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে।
সাম্প্রদায়িক ধর্মতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কথা বলে ক্ষমতাহীন রেখে নারীকে মর্যাদাহীন করে রাখে তাতে কোন অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ তৈরি হয়না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ যথাযোগ্যভাবে নির্মাণ করতে হলে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর বৈষম্য দূর করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত ও নারীর বৈষম্য দূর করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে আমাদের বাংলাদেশের নারীর অধিকার পুরুষের মতোই কিন্তু কেবলমাত্র ভোটের অধিকার দিলেই নারীর ক্ষমতায়ন হয় না। অবহেলার শিকার থেকে নারীকে রক্ষা করা যায় না। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্পদ, কর্ম, শিক্ষা ও ক্ষমতা কাঠামোতে ঢোকার অধিকার নিশ্চিত হলেই নারী অবহেলা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাসস




