পটিয়ায় থামানো যাচ্ছেনা টপ সয়েল কাটা-আলোচনায় ঠোকেন নুরু

পটিয়া(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ধানি কৃষি জমিতে টপ সয়েল কাটার মহোৎসব চলছে। এতে ফলে কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। অবাধে কৃষিজমির টপ সয়েল (জমির উপরি ভাগের উর্বরা অংশ) কেটে এসব মাটি নেয়া হচ্ছে ভূমি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক শ্রেণির দালাল ফসলি জমির টপসয়েল কেটে উজাড় করছে। এর ফলে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও ফসল বৈচিত্র মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
অভিযোগ রয়েছে, পটিয়া থানার কন্সটেবল নুর আলম প্রকাশ ঠোকেন নুরু উপজেলার সকল মাটি খেকোদের গাড়ি প্রতি ৩ হাজার টাকা নিয়ে মাটি কাটার রোড ম্যাপ ক্লিয়ার করে দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার এই কারিগর অল্প সময়ে যেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে। কনস্টেবল নুরু এখন দামী গাড়ি ছাড়া চলেই না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরী ধানি জমি থেকে টপ সয়েল কাটা বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিলেও এক শ্রেণির দালাল চক্র ফসলি জমির টপসয়েল কেটে উজাড় করছে। এ নিয়ে গত ২১শে ফেব্রুয়ারী পটিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. আতিকুল মামুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. রাকিবুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে উপজেলার খরনা এলাকায় মাটি কাটার ৩টি ট্রাক জব্দ, নগদ এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও দুইজনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়। জানা যায়, প্রতি বছর শুকনো মৌসুমের শুরুতে পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, কেলিশহর, খরনা, শোভনদন্ডী, ধলঘাট, ভাটিখাইন করল, বড়লিয়া, ছনহরা, হাইদগাও, হাবিলাসদ্ধীপ, আশিয়া, কাশিয়াইশ,জিরি জঙ্গলখাইন এলাকায় গাড়ি ও এস্কেভেটর সরবরাহকারী মাটি কাটার মূল হোতা বিএনপি নেতা মো. শাহজাহান, পটিয়া পৌরসভার একজন কাউন্সিলর এবং বড়লিয়ার ইসমাইল শরীফ,জমির আকবর হোসেন, সরওয়ার ভান্ডারী, নবাব চৌধুরী, মালেক ড্রাইভার, ইকবাল হোসেন, মো. শফি, সালাউদ্দিন, সেলিম, রহিম, কাদেরসহ ১০/১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট থানাকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন এস্কেভেটর দিয়ে ধানি ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কাটার ব্যবসা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের। বেশিরভাগ ইটভাটা ও বসতভিটায় টপ সয়েলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের (জমির মালিক) বিভিন্ন কৌশলে প্রলুব্ধ করে সামান্য অর্থের বিনিময়ে এবং গভীর রাতে কৃষকের অজান্তে তা উজাড় করছে। ফলে কৃষকরা ধরে রাখতে পারছেন না তাদের জমির স্বাভাবিক ফলন। কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ার কারণে ফসলের প্রধান খাদ্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়ামসহ বিভিন্ন জৈব উপাদানের ব্যাপক ঘাটতি হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন খরল, হাইদগাঁও সাতগাউছিয়া মাজার, হাইদগাঁও জিয়ারপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, কেলিশহর মডেল টাউন, খিল্লাপাড়া, ছত্তারপেটুয়া, নাগারা বিল, কচুয়াই পাহাড়ি এলাকা, খরনা, ধলঘাট প্রবাহ স্টোরসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিটি পয়েন্টে ১০/১৫ লোক এস্কেভেটর দিয়ে কৃষি জমিতে মাটি কেটে ট্রাক, ড্রাম, মিনি পিকআপ ও ট্রলি ভর্তি করে উজাড় করছে। নিষিদ্ধ এ যানবাহন চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমি। কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ কেটে নিয়ে বড় বড় প্রজেক্ট ভরাটের কাজে ব্যবহার করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাটি কাটার গভীরতার পরিমাণ ৮ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে কোথাও কোথাও অনৈতিক আগ্রাসনে পার্শ্ববর্তী মালিকের জমিও নষ্ট হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় যে কোনো ফলনযোগ্য জমির উৎপাদন শক্তি জমা থাকে মাটির ৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি গভীরতায়। মাটির এই অংশেই যে কোনো ফসল বেড়ে ওঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসলটি প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। এই অংশটি একবার কেটে নিলে সে জমির আর মৃত্তিকা প্রাণ থাকে না। এমনকি ওই জমিতে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কোনো ফসল বেড়ে উঠবে না। এতে জমিটি পরিত্যক্তই হয়ে যায়। পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, সাধারণ কৃষকদের অসচেতনতার সুযোগে এক শ্রেণির মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষি সম্পদের সর্বনাশ করছে। এ ব্যাপারে মাঠ পরিদর্শন করে শিগগির কৃষকদের বুঝানোর চেষ্টা করা হবে। পটিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, পটিয়া উপজেলার খরনা এলাকায় টপ সয়েল কাটার খবর পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযান চালিয়ে একটি ৩টি ট্রাক জব্দ করা হয় এবং জরিমানা ও জেল দেওয়া হয় অপরাধীদের। আমরা যেখানেই খবর পাচ্ছি অভিযান পরিচালনা করছি। যাতে করে পটিয়া উপজেলায় কৃষি জমি থেকে টপ সয়েল কাটতে না পারে সেজন্য এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




