
কমিউনিস্ট ঐক্য ও শ্রেণী গণসংগঠনের ঐক্যের চেষ্টায় :
১৯৮০ সালে জানুয়ারি মাসের বিভিন্ন সময়ে বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি এম-এলের নেতা কমরেড আব্দুল হক, বিরোধী পক্ষের কমরেড আব্দুল মতিন মুনির, কমরেড আমজাদ হোসেন ও কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিকের সাথে আলোচনা হয়েছিল। কমরেড জীবন মুখার্জী ও কমরেড আজিজুর রহমানের সাথেও অনেক আলোচনা হয়েছিল। আমি কারাগারে যাওয়ার পর পার্টি বিভক্ত হলে অন্য অংশের নেতা কমরেড শরদিন্দু দস্তিদার, কমরেড সত্যমৈত্র তাঁরা ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ এমএলের নেতা হন। তাঁদের সাথেও আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। ১৯৮০ সালের ২৪শে জানুয়ারি যশোর গিয়ে ঐদিনই সাক্ষাৎ করলাম কমরেড অমল সেনের সাথে। ষষ্ঠীতলা পাড়ার বাকড়ি গ্রামের অরবিন্দু বিশ্বাসের বাসায়ই সাক্ষাৎ হয়েছিল। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার ওই আলোচনায় কমরেড অমল সেন তখন আমাদের পার্টির পরিস্থিতি সম্পর্কেই জানতে চেয়েছিলেন।
আমি যা জানি তা বলেছিলাম। সর্বশেষ কথা হলো পরবর্তীতে কমরেড অমল সেনের সাথে সাক্ষাৎ করবো এবং আলোচনা করবো। আলোচনায় পারস্পরিক কুশলাদি বিনিয়ময়ও হয়েছিল। ১৯৮৩ সালের জাতীয় কৃষক সমিতির থানা সম্মেলনে কমরেড অমল সেনকে প্রধান অতিথি করা হয়। আমি তখন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ও জাতীয় কৃষক সমিতি উভয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলাম। পার্টি ও জাতীয় কৃষক সমিতির সম্মেলনে কমরেড অমল সেনকে প্রধান অতিথি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তখন বিপ্লবী কমিউনিসট লীগের যশোরের কেউ কেউ বিরোধিতা করে ছিলেন। কমরেড অমল সেনকে প্রধান অতিথি করার প্রস্তাব যখন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উত্থাপন করেছিলাম তখন কমরেড শরদিন্দু দস্তিদার ও কমরেড সত্যমৈত্র উভয়েই রাজনীতি ও কৌশলগত তফাৎ থাকার পরেও বলেছিলেন কমরেড অমল সেন প্রধান অতিথি হলে ভালোই হবে। কমরেড অমল সেন থেকে কৃষক আন্দোলনের কিছু অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা নিতে পারবে। ১৯৮৪ সালে জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সম্মেনলেও কমরেড অমল সেন ছিলেন প্রধান অতিথি।
কমরেড অমল সেনের উদ্যোগে কমরেড রাশেদ খান মেননের আজিমপুরের বাসায় কমরেড নজরুল ইসলামের সাথে ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে ১৪ বছর পর সাক্ষাৎ হয়। ওই সময়ে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও কমিউনিস্ট ঐক্যের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। তখনও পর্যন্ত কমিউনিস্ট লীগ এম-এল বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টিকে নয়া সংশোধনবাদী পার্টি মনে করতো। বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টিও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগকে বাম হঠকারী দল মনে করতো। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির আগের মূল্যায়ন ছিল বাম হঠকারী সশস্ত্র পার্টি। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ভেঙ্গে যায়। সাধারণ ভাবে আমি কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙ্গে ফেলাকে সঠিক মনে করি না তবে আদর্শের প্রশ্নে যদি মার্কসবাদ লেনিনবাদের কথা বলে সেই আদর্শের চর্চা না হয় এমনকি বিপ্লবী শ্রেণী সংগ্রামের কাজ ভিত্তিমূলক কাজ হিসেবে বিবেচিত না হয় সেক্ষেত্রে জোড়াতালি দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির ঐক্য রক্ষা করা ও গড়ে তোলার চেষ্টা করলে সত্যিকারের কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলে বিপ্লবী শ্রেণীসংগ্রামের কাজকে উপেক্ষা করার ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে।
চলবে/


