slider

সাভারে ব্যক্তি স্বার্থে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজীব

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার নিকটে সাভার উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হন মনজুরুল আলম রাজীব।
এর আগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তৌহিদ জং মুরাদ, সাবেক সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ কবির ও সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দারকে আওয়ামীলীগ থেকে বিতাড়িত করেছে রাজীব। এর পর পরই সাভার উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ও সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের পদটি বাগিয়ে নেন। 
এবার ঢাকা ১৯ আসনের (সাভার-আশুলিয়া) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার জন্য সকল ষড়যন্ত্র প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামীলীগের সাবেক এক সংসদ সদস্য।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আগে সমাবেশে শেখানো বক্তব্য পাঠ করতে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলাকে চাপ দেন মনজুরুল আলম রাজীব। হাড্ডি ভেঙ্গে দেওয়ার বক্তব্য দেওয়ায় শুরু হয় বিতর্ক। কোণঠাসা হয়ে পড়ে হাসিনা দৌলা। তিনি সভাপতি থাকলেও নেতাকর্মীদের ব্যানার ফেস্টুন, দলীয় প্রোগ্রামে তাকে দাওয়াত করা হয় না।
গত কয়েকদিন আগে ছাত্রলীগের কমিটিকে কেন্দ্র করে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব। ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলামকে ভয় দেখিয়ে সংগঠন থেকে ভিন্ন একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করেন রাজীব । অপর দিকে আরেকটিতে প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে সুপারিশ করানো হয়। শুরু হয় বিতর্ক। বিভিন্ন সভা সেমিনারে ভিডিও ধারণ বন্ধ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়,”সংসদ সদস্য হয়ে এই এলাকায় কি করেছেন ডাক্তার এনামুর রহমান.?” তার লক্ষ ও এমন বক্তব্য দেওয়ার কারণ আগামীতে যেন নেতাকর্মীদের সমর্থন হারায় ডাক্তার এনামুর রহমান।
এর কয়েকদিন পর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী কে নিয়েও ষড়যন্ত্র করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব। 
এবার আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন ও সাভার পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুল গনির পরিবার নিয়েও ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব। আওয়ামী লীগ ধ্বংসের এই কিলিং মিশনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেন তিনি। “ধরি মাছ, না ছুই পানি” এই প্রবাদের মত।
কিছুদিন পূর্বে তার একমাত্র লোকবল তৈরির কারখানা ও পাওয়ার হাউজ সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিককে নিয়েও ষড়যন্ত্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব। তার আরেক কর্মী দিয়ে তরুণীর ভিডিও ভাইরাল করা হয়। আতিকের অপরাধ তিনি সংসদ সদস্য ডাক্তার এনামুর রহমানকে সমর্থন করেন । এর পেছনে উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীবের স্ত্রীর ভাই সাভার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম রুবেল বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
পারিবারিকভাবে মনজুরুল আলম রাজিবের নানা ছিলেন একজন রাজাকার। তেতুলঝোড়া ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় তাকে । মারধরের এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হাত পা ধরে ক্ষমা চেয়ে রাজীবের বাবা ওয়াসিল উদ্দিন সাংবাদিকতা পেশায় থাকার সুবাদে রক্ষা পায় তার নানা ।
মূল ধারার আওয়ামী লীগের নেতাদের এমন কোনঠাসা করে নিজে আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন মঞ্জুরুল আলম রাজীব। শুধু তাই নয় এগুলো নিয়ে যেন লেখালেখি না হয় সাভার প্রেসক্লাব ও আশুলিয়া প্রেসক্লাবে নিজস্ব অর্থায়ন করে সাংবাদিকদের মাঝে বিভক্তি তৈরী করে রেখেছেন মনজুরুল আলম রাজিব।
বর্তমানে সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মনজুরুল আলম রাজীব। তার ভাই সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার মামা সাভার পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা। 
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজে বিনা ভোটে ত্রাস সৃষ্টি করে সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বনে গেছেন মনজুরুল আলিম রাজিব। 
এরপর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাভার উপজেলার তেতুলঝরা ইউনিয়নে ত্রাস সৃষ্টি করে চেয়ারম্যান হয়েছেন সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান রাজীবের ভাই ফখরুল আলম সমর। 
এরপর সাভার পৌরসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ত্রাস সৃষ্টি করে দুই নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান রাজীবের মামা নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা। 
পরিবার তন্ত্র তৈরি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব। শুধু দেশেই নয় তিনি ভারতের একটি প্রদেশে জমি কিনেছেন । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ঘনিষ্ঠ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভারের এক প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ কয়েকটি সংস্থা সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব ও তার পুরো পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে । শেষ পর্যন্ত এ থেকেও রক্ষা পেতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে ব্যবহার করছেন তিনি। 
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার সাথে মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা সব কিছুই অবগত । নেত্রী জানেন । সাভার আমাদের সবসময় চোখের সামনে ভাসমান থাকে। আপনারা দেখতে পারবেন খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
তিনি আরো বলেন, যারা আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত হয়েছে রাজীবের জন্য। তাদের সাথে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কথা বলা হচ্ছে। দায়িত্ব দিয়ে আবারও পুনরায় দলের জন্য কাজ করানোর চেষ্টা চলছে। মনের ক্ষোভে এতদিন যারা দল থেকে বিমুখ ছিল তারা পূর্বের ন্যায় কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন । বিএনপি জামাতের সঙ্গে লড়তে গেলে শুধু রাজিবকেই পাইরোটি দিলে চলবে না ত্যাগী নেতাদের সামনে আনতে হবে। দলের পক্ষ থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button