লামায় ভূমিচ্যুত করার জন্য মামা শশুরকে দিগম্বর করার চেষ্টায় এক নারী

জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি : ছবির এই নারীর নাম খুরশিদা আক্তার। লামা উপজেলা সরই ইউনিয়ন, কুতুবদিয়া পাড়া, ০৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সে তার মামা শশুরকে দিগম্বর করার এক নির্লজ্জ আচরণ করতে থাকে। যা দেখে সবাই লজ্জা বোধ করছেন। সেখানকার স্থানীয় কেউ এই ভিডিওটি ধারণ করে না রাখলে হয়তো, মহিলাটির এমন দূরদর্ষ ভূমিকায় জয়নাল প্রকাশ সোনা মিয়াকে উপস্থাপন করা হতো(!)। ভাগ্যিস সোনা মিয়ার গলার সোনার চেইনটি নিতে পারেনি। বেচারী এবারের মতন বেঁচে গেলেন। কেন সোনা মিয়া এভাবে হামলার টার্গেট হলেন? জানাগেছে, ভূমি বিরোধ। এই ঘটনাটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টায় ঘটেছে। সোনা মিয়ার পরিবার ও প্রতিবেশিরা জানান, বিগত ৪০ বছর ধরে সোনা ২ একর ৩য় শ্রেণির পাহাড় আবাদ করে বিভিন্ন বৃক্ষ সৃজন করে। বিগত ২০১০ সালে সেখানে বসত ঘর নির্মান করে ভোগদখলে রয়েছেন। সে ওই খাস জায়গার হেডম্যান রিপোর্ট নিয়ে বন্দোবস্তি পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক এর কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তার সহোদর অন্য তিন ভাই, তাদের স্ত্রীরাসহ জায়গাটি পৈত্রিক দাবি করে সোনা মিয়া ও তার পরিবারের উপর নানা ধরণের ষড়যন্ত্র, মিথ্যা অভিযোগ ও হামলা চালাচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বর সোনা মিয়াকে দিগম্বর করার মানসে বেদম প্রহার করে। এর পর অজ্ঞান সোনা মিয়াকে তার স্ত্রী সন্তান ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে লোহাগাড়া একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। এ দিকে হামলাকারীরা লামা থানায় গিয়ে উল্টা সোনা মিয়ার নামে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। সুস্থ্য হয়ে গত ২ অক্টোবর সোনা মিয়া তার উপর হামলাকারী নারীসহ ৬ জনকে আসামী করে লামা থানায় মামলা করেন। ক্যায়াজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে অভিযোগগুলো তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানাগেছে। কিন্তু সোনা মিয়ার স্ত্রী সন্তানদেরকে প্রতিনিয়ত নাজেহাল করে চলছে তার অপরাপর ভাতৃদ্বয়, ভাগিনা বউসহ সবাই। বসত বাড়িসহ তার ভোগদখলী ভূমির গাছ গাছালি কেটে নিচ্ছে। তার পরিবারের উপর হামলা করে, আবার উল্টো মামলা করে হয়রানি করছে বলে জানান, সোনা মিয়ার স্ত্রী। সরে জমিন জানাযায়, যে পাহাড়ের অংশ সোনা মিয়ার ভাইয়েরা পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবি করেন, তা মূলতঃ খাস এবং সেখানে দীর্ঘ বছর ধরে সোনা বসত ঘরসহ নানান জাতের বৃক্ষরাজি সজন করে দখলে স্থিত আছে। হেডম্যান রিপোর্টও সোনা মিয়ার নামে আছে। এছাড়া তার দখলীয় খাস ২ একর ৩য় শ্রেণির পাহাড় বন্দোবস্তি পাওয়ার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদনও করেছে সোনা মিয়া প্রকাশ জয়নাল। আবেদনে প্রান্তিক সোনা মিয়ার জন্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সুপারিশও রয়েছে। পার্বত্য বিধি অুনযায়ী বন্দোবস্তি বন্ধ হেতু জেলা প্রশাসন তা করতে পারছেন না। তবে একই বিধি অনুযায়ী মৌজা হেডম্যানের রিপোর্টের ফলে ভোগ দখলে থাকা প্রজা সেখানে বসবাসের ক্ষেত্রে সরকার (ডিসি) ব্যতিত খাস জায়গা থেকে উঠিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আর কারো নেই। বর্তমানে সোনা মিয়ার উপর নানা ধরনের নির্যাতন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সেখানকার প্রতিবেশিরা। স্থানীয় বীর কুমার তঞ্চঙ্গা জানান, সোনা মিয়ার উপর তার ভাইয়েরা জুলম-অন্যায় করে চলছে। তিনি জানান, তার ভাইয়েরা সোনা মিয়ার বসত ঘরসহ তার আবাদীয় ভোগদখলে রত ২ একর পাহাড় হেডম্যান রিপোর্ট নিয়ে বন্দোবস্তির আবেদন করেছেন। দীর্ঘকাল থেকে সে জায়গাটি দখল করে বসবাস করছে।



