ধামরাইয়ে ভুল চিকিৎসায় সেই যুবকের মৃত্যু চিকিৎসকের শাস্তি দাবি

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার ধামরাইয়ে ডালিম হোসেন নামে এক পল্লীচিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় রফিকুল ইসলাম (২৫) নামের সেই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ১৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান। রফিকুলের মৃত্যুর খবর ধামরাইয়ের নান্নার গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পল্লীচিকিৎসক ডালিম হোসেন তার নান্নার বাজারের দেওয়ান ফার্মেসীতে তালা ঝুলিয়ে এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। ক্ষুব্দ এলাকাবাসী ও নিহত রফিকুলের পরিবারের সদস্যরা ভুল চিকিৎসাকারী ডালিম হোসেনের শাস্তি দাবি করেছেন। এ নিয়ে গত ৮ অক্টোবর সমকালে ‘ভুল চিকিৎসায় যুবকের জীবন সংকটাপন্ন’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদও প্রকাশিত হয় এবং ওইদিনই ধামরাই থানায় ডালিম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর হঠাৎ করেই ধামরাইয়ের নান্নার গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। ওইসময় বাড়ির পাশের নান্নার বাজারের দেওয়ান ফার্মেসীর মালিক ডালিম হোসেনের কাছে চিকিৎসার জন যান তিনি। ওই সময় ডালিম হোসেন নাকের রক্তপড়া বন্ধ করার গ্যারান্টি দিয়ে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো রফিকুলের বাম বাহুতে ইনজেকশন পুশ করেন। এর ১০ মিনিট পর থেকেই তার হাত ফুলে যায়। এক পর্যায় হাতসহ সারা শরীরে ফোসকা ওঠে ও রক্ত জমাট বেধে ফুলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি ডালিম হোসেনকে জানালে অন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে নিষেধ করে নিজেই কিছু উচ্চমানের এন্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা সহকারে রফিকুল সুস্থ হয়ে যাবে বলে আশস্ত করেন। কিন্তু সুস্থ না হয়ে শরীরের অবস্থা আরও অবনতি হলে পরেরদিন ২ অক্টোবর তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নাকের রক্ত পড়া বন্ধ হলেও হাত ফুলতেই থাকে এবং রক্তের প্লাটিনা কমে যায়। পরে তাকে ঢাকার পিজি হাসপাতাল ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরও সুস্থ না হওয়ায় সেখান থেকে বুধবার ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রফিকুল।
গতকাল মৃত্যুর খবর ধামরাইয়ের নান্নার গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পল্লীচিকিৎসক ডালিম হোসেন তার নান্নার বাজারের দেওয়ান ফার্মেসীতে তালা ঝুলিয়ে এলাকা থেকে গা ঢাকা দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার নান্নার বাজারে গিয়ে তার দেওয়ান ফার্মেসীতে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
গতকাল দুপুরে রফিকুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ওঠানে তার মা হনুফা বেগমের আহাজারিতে পুরো পরিবার স্তব্দ হয়ে গেছে। হনুফা বেগম বিলাপ করে বলছেন, আমার ছেলে রফিকুলরে এনে দাও, ওই মরতে পারে না। ওর মৃত্যুর জন্য ডালিম ডাক্তারের বিচার চাই।
রফিকুলের বাবা আইয়ুব আলী বলেন, ডালিম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায়ই আমার ছেলে মারা গেছে। ডালিম ডাক্তারের বিচার চাই, ফাঁিস চাই।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর আগেও ডালিম হোসেন একই গ্রামের গীতা রানীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলেছে। পরে জরিমানা দিয়ে তখন রক্ষা পেয়েছে। আমরা এই ডালিম হোসেনের শাস্তি চাই।
রফিকুলের চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, রফিকুলকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর আমি নিজে বাদী হয়ে ডালিম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, রফিকুল ইসলামের মত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে অভিযোগ দিলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



