sliderউপমহাদেশ

ভূমধ্যসাগরে ফের অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিহত ৩৪

ভূমধ্যসাগরে সিরিয়া উপকূলে লেবানন থেকে অভিবাসী ও প্রত্যাখ্যাতদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সিরিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এ ঘটনায় ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২০ জনকে উদ্ধার করে টারটোসের বাসিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বেঁচে যাওয়া লোকদের বরাতে সিরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, গত মঙ্গলবার লেবাননের উত্তর মিনিহ অঞ্চল থেকে নৌকাটি ১২০ থেকে ১৫০ জন লোক নিয়ে ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে নৌকাটি ডুবে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বন্দর মহাপরিচালক সামের কুব্রুসলি বলেছেন, উত্তাল সমুদ্র ও প্রবল বাতাসের কারণে সৃষ্ট কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই অনুসন্ধান অভিযান চলছে।
কিছু লেবানিজ, সিরিয়ান এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সঙ্কট-বিধ্বস্ত লেবানন থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ক্রমেই বাড়ছে এবং অবৈধ এই যাত্রা পথে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনা।
অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে শুধু লেবাননেই হাজার হাজার লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে এবং লেবানিজ পাউন্ডের মূল্য ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। এছাড়া হাজার হাজার পরিবার তাদের ক্রয় ক্ষমতা হারিয়েছে এবং এখন তারা কার্যত চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।
তার্তুসের গভর্নর আব্দুল হালিম খলিল হাসপাতালে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দেখতে গেছেন বলে জানা গেছে।
ডুবে যাওয়া নৌকায় ঠিক কতজন লোক ছিল এবং তারা ঠিক কোথায় যাচ্ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। তবে কোস্টগার্ড এখনও মৃতদেহের সন্ধান করছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে বিভিন্ন দেশের মানুষ ছিল।
গত এপ্রিল মাসে লেবাননের নৌবাহিনীর সাথে সংঘর্ষের পর, সমুদ্রপথে ইতালিতে অভিবাসনের চেষ্টারত কয়েক ডজন লেবানিজ, সিরিয়ান এবং ফিলিস্তিনিদের বহনকারী একটি নৌকা ত্রিপোলি বন্দর থেকে ৫ কিমি (৩ মাইল) এরও বেশি দূরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ওই সময় বহু মানুষ প্রাণ হারায়।
আল জাজিরা বলছে, দেশ ছেড়ে যাওয়া অভিবাসীরা উত্তর লেবাননের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ছোট এই দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চল।
সূত্র : আল জাজিরা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button