slider

মানিকগঞ্জে বিএনপির প্রতিবাদ সভায় সরকার পতনের ডাক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : জ্বালানি তেল, পরিবহন ভাড়াসহ সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও দলীয় নেতা-কর্মী নিহতের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সমাবেশ থেকে বক্তারা সরকার পতনের ডাক দিয়েছে।
বুধবার বিকেলে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী ওই সমাবেশে হাজার-হাজার নেতাকর্মীতে ঠাসা ছিল মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়-সংলগ্ন এলাকা। ২০০৭ সালের পর জেলা শহরে এমন আয়োজন আর করতে পারেনি দলটি।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা বলেন, ‘দেশের মানুষের কোনো ভোটাধিকার নেই। সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসক কায়েম করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গুলি করে দলীয় নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও দেশের মানুষের মুক্তির জন্যে এ সরকারের পতন কোনো বিকল্প নেই।’ এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের যেকোনো আন্দোলনের জন্যে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গুম-খুন করে গণতন্ত্রকামী জাতীয়তাবাদী দলের কোনো নেতা-কর্মীর মনোবল দুর্বল করা যাবে না। একটি বিশেষ মহলের কারণে জ্বালানি তেল, পরিবহন ভাড়াসহ সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের মানুষ দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে। আগামী নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান করেন তিনি।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তরা বলেন, আবারো ক্ষমতায় আসতে সরকার নানামুখী কৌশল করছে। ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে তারা ডিজিটাল কারচুপি করতে চায়। তাই অবিলম্বে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, মানিকগঞ্জ থেকেই এ সরকারের পতন আন্দোলন শুরু হবে এবং সমাবেশ থেকে সরকার পতনের ডাক দেন তারা।
মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপি ও সদর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরতাজ আলম বাহার, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ কবীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জিন্নাহ খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম খান সজিব প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button