পীরগাছায় রাজাকারকে সভাপতি করায় ও পারিবারিক কমিটি বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরের পীরগাছায় নটাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে গোপনে তালিকাভূক্ত রাজাকারকে সভাপতি নির্বাচন ও প্রধান শিক্ষকের স্বজনদের দিয়ে পারিবারিক কমিটি বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় নচেতন নাগরিক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। আজ বুধবার সকালে বিদ্যালয় সংলগ্ন নটাবাড়ী বাজারে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় নাগরিক সমাজের ব্যনারে মানববন্ধনে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুরা অংশ নেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে একক আধিপত্য বিস্তারে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বার বার নিজের পরিবারের লোকজন দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে। বাইওে এডহক কমিটির কথা প্রচার করলেও গত ৭ মাস আগে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষকের শশুড় তালিকাভূক্ত রাজাকার শামছল আলমকে সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের ২ জন জ্যাঠা শ^শুড়, একজন চাচা শ^শুড়, একজন ভায়রা, সমন্দি, চাচাতো ভাইয়ের শ^শুড়, খালা, ভাতিজি জামাই, ফুপা শ^শুর নির্বাচন করা হয়। এই পারিবারিক কমিটির দিয়ে ১২ লাখ টাকা বিনিময়ে সমন্দিও স্ত্রীকে আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেয়া হলে গোপন কমিটির বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। এদিকে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে ময়লাযুক্ত ব্যানার আর ময়লায় কালো হয়ে যাওয়া জাতীয় পতাকা টাঙ্গানো এবং শোক দিবস পালন না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় গতকাল বুধবার বিদ্যালয় সংলগ্ন নটাবাড়ী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন ক্ষুদ্ধ লোকজন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, আশরাফুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, অভিভাবক সোহরাব হোসেন, নুর আলম মিয়া, আবুল কাশেম, শিরিনা বেগমসহ আরো অনেকে। এসময় বক্তাগণ বলেন, জামায়াত-শিরিব পরিবারের লোকজন দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। প্রধান শিক্ষকের শ^শুর একজন তালিকাভূক্ত রাজাকার। তাকে কিভাবে সভাপতি নির্বাচন করেন। কমিটির সব লোকই তার পরিবারের। বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্টের জন্য তিনি এ ধরনের কাজ করেছেন। আমরা অবৈধ এ কমিটি বাতিলের দাবি করছি এবং প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করছি।
এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, কে রাজাকর কে কি আমি জানিনা। সব নিয়ম মেনেই কমিটি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, কমিটি অনুমোদন দেয় শিক্ষা বোর্ড। কমিটি ভাঙ্গার এখতিয়ারও শিক্ষা বোর্ডের। আমরা তাদের সেখানে সংশ্লিষ্ট শাখায় অভিযোগ করতে বলেছি।




