slider

সেঁকলে বন্দি জীবন থেকে মুক্তি চায় জাহিদ

রংপুর ব্যুরোঃ প্রায় এক যুগেরেও বেশী সময় ধরে শিকলে বাধা জাহিদের জীবন। প্রথম দেখাতেই মনে হবে সুস্থ জাহিদ। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায় অন্য মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন নয় তার। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় গত ১২ বছর ধরে শিকলবন্দী জাহিদ নামে সেই তরুণ। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশী সময় ধরে এভাবেই কাটছে তার জীবন।
মানসিক ভারসাম্যহীন জাহিদের বাড়ি রংপুর নগরীর ২ নং ওয়ার্ডের শুকানচকি অভিরাম গ্রামে। ওই গ্রামের ভ্যান চালক দিন মজুর ইউনুস আলী ও জাহানার বেগম দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে প্রথম জাহিদ।
প্রতিবেশীরা জানান, জাহিদ ছোট থেকেই আশপাশের মানুষের ক্ষতি করে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে রাখেন। তাকে গত ১২ বছর এর বেশী সময় ধরে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে।
জাহিদের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘মানুষের ক্ষতি করলে তারা নালিশ করে, নানা কটু কথা শুনায়।তাই জাহিদ কে বাধ্য হয়ে বেঁধে রাখি।
জাহিদের বাবা দিনমজুর ইউনুস আলী বলেন, ‘ছেলের বয়স যখন ৩ বছর তখন তারা বুজতে পারেন ছেলে অন্যদের মতো সুস্থ না। পরে অনেক কবিরাজি চিকিৎসা করেন। সর্বশেষ পাবনার পাগলা গারদে নিয়ে যান কিন্তু জাহিদের বয়স কম থাকায় সেখানেও তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি নেয় নাই।
শেষে গত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর পর অর্থের অভাবে আর যেতে পারেননি। সে সময় চিকিৎসক জানিয়েছিলেন চিকিৎসা চললে সুস্থ হয়ে যাবে জাহিদ।
পরিবার জানায়, এলাকাসীর কথায় প্রথমে কয়েক বছর বিভিন্ন কবিরাজ ও কথিত পীরের বাড়িতে গিয়ে ঝারফুক ও তাবিজ দিয়েছেন। কিন্তু কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় রংপুরের বেশ কয়েকজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখান। কয়েক বছর চিকিৎসাও চলে।
পরিবার আরো জানায়, অন্তত ২২ শতক জমি বিক্রি করতে হয়েছে জাহিদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে। কিন্তু গত ১২ বছরের বেশী সময় ধরে সকল চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হয় পরিবার। বাবা ইউনুস আলী অর্থের অভাবে আর ছেলের চিকিৎসা চালাতে পারেনি তার পরিবার।
জাহিদের মা জাহানারা বেগম আরো জানান, তার ছেলে মানুষের ঘরবাড়ি ফসল নষ্ট করে ফেলে। একদিনে এলাকার ঘড় বাড়ির বেড়া নষ্ট করে ফেলে, স্থানীয়দের দেখলে মারামারি করে।এছাড়া নিজের ঘরবাড়িও তছনছ করে ফেলে। ছেলের পাগলামির কারণে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখতে হয়।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ছেলের চিকিৎসার জন্য বাড়ী ভিটা বিক্রি করে চিকিৎসা করা হয়েছিলো। তাও শেষ হয়ে গেলো। এখন বাড়ী ছাড়তে হবে।এদিকে ছেলেকে শিকল পরাতে কষ্ট হয়। কিন্তু শিকল না পরালে সে আমাদেরকেও মারধর করে। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। তার জন্য একটা থাকার ঘড় পর্যন্ত নেই। এখন আর চিকিৎসা করানো সম্ভব না।
রংপুর সিটি কর্পোরেশন ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘পরিবার বাধ্য হয়ে শিকল পরিয়ে রেখেছে নিজেদের সন্তানের পায়ে। এদের চিকিৎসায় সরকার ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ।পরিষদের পক্ষথেকে মাঝে মাঝে সাহায্য দেওয়া হয়।
অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে সমাজের মুল স্রোতধারায় নেওয়ার যে চিন্তা চেতনা তা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। জাহিদ কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করার জন্য পরামর্শ দেন সমাজ সেবার কর্মকর্তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button