নবাবগঞ্জে মাটিখেকোদের থাবা ধ্বংসের মুখে কৃষিজমি

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভেকু দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একশ্রেণির মাটি বিক্রেতা সিন্ডিকেট। তাদের ভয়াল থাবায় প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে নবাবগঞ্জ উপজেলার ১০ থেকে ১৫টি স্পটে শতাধিক বিঘা কৃষিজমি। আর এভাবে প্রতিনিয়ত নষ্ট হওয়া কৃষিজমি নিয়ে ভাবনায় পড়েছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। এসব মাটি বিক্রির কর্মকাণ্ডে জড়িতরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মাঝে মাঝে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও আবার রাতের আঁধারে পুরোদমে চালিয়ে যায় মাটি কাটার মহোৎসব। দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলার অভিভাবক সালমান এফ রহমান এমপি’র কঠোর নির্দেশনা থাকার পরও উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ভেকু মেশিন দিয়ে রাতের পর রাত মাটি কেটে ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন স্থানের ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার নয়নশ্রী, কৈলাইল ও বক্সনগর, বাহ্রা ইউনিয়নে পুকুর সংস্কার ও খননের নামে দিব্যি মাটি বিক্রয় করা হচ্ছে। এতে ওই এলাকার সড়ক দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলেও জনভোগান্তি কমছে না। বান্দরা ইউনিয়নের নুরনগর চক, চালনাই চক, যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ভাওয়ালিয়া চক, কলাকোপা ইউনিয়নের রাজপাড়া, বালুরচর, সাহেবখালী, শিকারীপাড়া হাগ্রাদী চকে, প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে হরিলুট। অন্যদিকে মাটি বিক্রয়ে প্রচুর আর্থিক লাভবান হওয়ার কারণে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে মাটি বিক্রয় করে চলেছেন বিভিন্ন সিন্ডিকেট। এদিকে এসব সিন্ডিকেটের নেতারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে লোকালয়ে বেশ কিছু ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনকে বারবার এ বিষয়ে অবগত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন ফসলি জমি কেটে প্রকাশ্য দিবালোকে ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই ইটভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। অপরদিকে ফসলি জমি কাটার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কর্ণপাত করছেন না। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি জমিতে নতুন করে একের পর এক গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। এখন কৃষি অধ্যুষিত এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের আবাদি কৃষিজমি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। মাটি ব্যবসায়ীদের কারণে কৃষিকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি ধ্বংস করে গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা। এর ফলে কমছে কৃষিজমি। এ ছাড়া এসব ইটভাটার পাশে অবস্থিত আবাদি কৃষিজমি কেটে মাটি উত্তোলন করার কারণে পরিবেশসহ বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে প্রতিদিনের কৃষি কাজকর্ম।
বান্দুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন- আমি শুনেছি আমার ইউনিয়নের চালনাই চক ও নয়ানগরে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি কাটছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে জানিয়েছি। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষিজমি বিপন্ন হবে। আমাদের এমপি মহোদয় কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কৃষিজমির মাটি কাটার বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অরুণ কৃষ্ণ পাল গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিভিন্ন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানা করেছি। অভিযান চলমান রয়েছে। কোথাও এরকম ঘটনা ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




