slider

সিংগাইরে ইমামকে বের করে দিয়ে মসজিদে বেড়া, নামাজ আদায় বন্ধ

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দু’শতাধিক পরিবারের নামাজ আদায়ের মসজিদ থেকে ইমামকে বের করে দিয়ে চার পাশে বেড়া দেয়া হয়েছে। এতে এলাকা বাসীর নামাজ আদায় রয়েছে বন্ধ ।
শনিবার (২ এপ্রিল) ভোরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পূর্ব ভাকুম জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন দুপুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৮-২০ বছর আগে ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন সাড়ে ১৫ শতাংশ জমি ওই মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। তারপর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা চৌচালা টিনের ঘর তুলে নামাজ আদায় করে আসছিলেন। শনিবার ভোরে ওই জমির মালিকানা দাবী করে স্থানীয় মৃত কাশী সিকদারের পুত্র মোতালেব সিকদার, শফি শিকদার, মগর সিকদার, আব্দুল্লাহ সিকদার ও সমেজ সিকদার সহ ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা সিফাতকে বের করে দেয়। এরপর মসজিদের চারপাশে বাঁশের বেড়াদিয়ে মুসুল্লিদের প্রবেশ নিষেধ করে দেয়। সেই সাথে ভেঙ্গে ফেলা হয় ওজুর কাজে ব্যবহৃত মসজিদের টিউবওয়েলটিও। এ ঘটনার পর থেকে আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। নামাজ পড়াও রয়েছে বন্ধ। এলাকাবাসী পবিত্র রমজানের তারাবীর নামাজ আদায় নিয়েও রয়েছেন উৎকন্ঠায়।
এলাকাবাসী বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইলিয়াস হোসেন বলেন, দখলদাররা
ইতিপূর্বে মসজিদের জায়গাটি কখনো নিজেদের দাবী করেননি। অতর্কিত ভাবে মসজিদের চারপাশে বেড়াদিয়ে মুসুল্লীদের নামাজ আদায় বন্ধকরা দেয়া জঘন্য কাজ।
পূর্ব ভাকুমজামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. পিয়ার আলী বলেন, দখলদারদের ভয়ে আতংকে আছি। প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।
অভিযুক্ত সফি সিকদার বলেন,১৫-২০ বছর আগে আমাদের জায়গায় জোর করে মসজিদ তোলা হয়েছিল। জমির জরিপ কাজ শুরু হওয়ায় এখন আমরা বেড়া দিয়েছি,
জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো.শাহাদৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনে দখলদারদের ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার কথা শুনছেনা।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, এ বিষয় নিয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি।তারপরও আমি পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button