slider

লিবিয়ায় নিখোঁজ বাংলাদেশি সাংবাদিক ও প্রকৌশলী

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকা থেকে লিবিয়া যাওয়া বাংলাদেশি সাংবাদিক জাহিদুর রহমান পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি এবং সাভার প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য। সাভার পৌর এলাকার শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা তিনি। তার সাথে বাংলাদেশি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও গাড়িচালক মোহাম্মদ খালেদও নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ত্রিপোলিতে ক্ষমতাসীন সরকারি বাহিনীর কেউ তাদের অপহরণ করতে পারে।
সোমবার সকালে জাহিদুর রহমানের স্ত্রী তাসলিমা রহমান জানান, গত ২৩ মার্চ থেকে তার স্বামী জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক জাহিদুর রহমান।
জাহিদুরের স্ত্রী তাসনিমা রহমান বলেন, গত ৩ মার্চ লন্ডনের উদ্দেশে জাহিদুর রহমান সাভারের বাসা ত্যাগ করেন। এরপর সেখান থেকে তিনি লিবিয়া যান বলে জানতে পেরেছি। ২৩ মার্চ ফোনে আমার সাথে তার শেষ কথা হয়েছে। এরপর থেকে মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি। কোনো খবরই পাচ্ছি না আজ। লন্ডনে যারা পরিচিত আছেন তারাও এখন আর কিছুই জানাতে পারছেন না। তাকে অপহরণ করা হয়েছে এটুকু জানতে পেরেছি।
লিবিয়ায় গিয়ে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এনটিভির সাংবাদিক জাহিদুর রহমান। তার সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছেন লিবিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও গাড়িচালক মোহাম্মদ খালেদ। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছে জাহিদের পরিবার। এদিকে, প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের পরিবারের ধারণা, লিবিয়ার সরকারের বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের ধরে নিয়ে যেতে পারে। ত্রিপোলিতে মিলিশিয়া বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কম বলেও জানান তাঁরা। সাংবাদিক জাহিদুর রহমান এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
জাহিদুর রহমানের স্ত্রী তাসলিমা রহমান জানান, গত ২১শে মার্চ লিবিয়ায় যান জাহিদ। পরে ২৩শে মার্চ পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এরপর থেকেই তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রথম দিকে তাঁর পরিবার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে অনেকেই জানান, তাঁরাও জাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
তাসলিমা বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা এনটিভিকে জানিয়েছি। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানকে জানিয়েছি। পরে প্রতিমন্ত্রী জানান, জাহিদুর কোরিনথিয়া নামের একটি হোটেলে উঠেছিলেন। কিন্তু, সে হোটেলেও তিনি ফেরেননি। আমার একটাই আবেদন আমার স্বামীকে আমাদের কাছে ফিরে আসুক।’
জাহিদুরের স্ত্রী আরও জানান, এ ঘটনা নিয়ে পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। এরপর জানা যায়, জাহিদুর রহমানকে অপহরণ করা হয়েছে। তবে কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা জানা যায়নি।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল এস এম শামিম উজ জামান জানিয়েছেন, প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল, কোনো সরকারি সংস্থা তাঁদের ধরে নিয়ে গেছে। তবে, এখন মনে করা হচ্ছে মিলিশিয়া গোষ্ঠীও ধরে নিয়ে যেতে পারে। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ত্রিপোলিতে সাংবাদিক জাহিদুর রহমান বিভিন্ন জায়গায় ছবি তুলছিলেন। এখানে ছবি তোলা নিষেধ। এটি একটি বড় কারণ। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
জানা গেছে, গত ৩ মার্চ টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পারিবারিক ভিসায় লন্ডনে যান জাহিদ। সেখান থেকে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ঘুরে ২১ মার্চ লিবিয়ায় পৌঁছান তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন জাহিদুর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘লন্ডন থেকে লিবিয়া। গৃহযুদ্ধ কবলিত দেশটিতে প্রবেশ ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। লন্ডন যাবার আগেই তাই বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ভিসা সংগ্রহ করেছিলাম ঢাকা থেকে। তা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন অতিক্রম শেষে পদে পদে ছিল ভয়-ভোগান্তি দুটোই। এর প্রধান কারণ নিরাপত্তাহীনতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ায় রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি এক কথায় ভয়াবহ।’
২২ মার্চ দুপুরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির ময়দানে সোহাদা নামে পরিচিত গ্রিন স্কয়ারে গিয়ে একাধিক ছবি তোলেন জাহিদ। সেখান থেকে তিনি লেপসিস ম্যাগনা এলাকায় যান। গ্রিন স্কয়ারে লিবিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে এক বৃদ্ধের সাথে একাধিক ছবিও পোস্ট করেন নিজের ফেসবুকে। এদিকে জাহিদুর রহমানের কর্মস্থল এনটিভি থেকে বলা হয়েছে তিনি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ব্যক্তিগত সফরে গত ৪ মার্চ লন্ডনে যান। পরে লিবিয়া গিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button