
সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন)। ৯২ বছর বয়সী সাবেক রাষ্ট্রপতি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
জনাব সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন; ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালের জুন মাসে তাঁকে বিচার বিভাগে বদলি করা হয়। তিনি ঢাকা ও বরিশালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁকে বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিচারক পদে উন্নীত করা হয়।
১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ বিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করা হয়। ওই দিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে উপ-রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর ফলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন এবং নিরপেক্ষ অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে সুপ্রিম কোর্টে ফিরে যান এবং ১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি করা হয়।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির আহবায়ক ও সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. তাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার জন্য বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।




