slider

নাটোরের ১৪ বছর পর ঘরে ফিরলেন ১১ সন্তানের জননী রাবেয়া

নাটোর প্রতিনিধি : রাবেয়া বেগমের বয়স এখন ৮৩। বছর চৌদ্দ আগে কোনো একদিন পাশের গ্রামে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আর পৌঁছাতে পারেননি। পথ হারিয়ে চলে যান অন্য কোথাও। ১১ সন্তানের মা রাবেয়া বেগম। বাড়ি নাটোর সদরের ইসলাবাড়ি খামারে। ২০০৮ সালে নিজ বাড়ি থেকে গিয়েছিলেন পাশের গ্রাম উত্তরা গণভবনখ্যাত দিঘাপাতিয়ার ছোট হরিশপুরে মেয়ের বাড়িতে। কিন্তু পথ হারিয়ে ফেলেন। পাঁচ ছেলে, ছয় মেয়ে ও মেয়ে জামাই, নাতি-নাতনিরা সহ আÍীয়স্বজন দিনের পর দিন তাকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন কোনো খবর না পাওয়ায় ভেবেছিলেন, তিনি মারা গেছেন।
ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে ১৪ বছর। শতবর্ষী স্বামী মুসা মিয়া স্ত্রীর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর কিছুদিন আগে মারা গেছেন।
গত সপ্তাহে হঠাৎ এক ইউটিউবার লাইফ স্টোরি শিরোনামের পেজে রাবেয়া বেগমের কিছু ছবি ও ভিডিও আপলোড করে জানান, এই বৃদ্ধা রাশিদাসহ তার চার মেয়ে এবং ময়েন উদ্দিনসহ তিন ছেলের নাম বলতে পারেন। কোনো ঠিকানা বলতে পারেন না। ফিরতে চান সন্তানদের কাছে।
গত ১০ বছর যাবত বসবাস করছেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার বোতলা গ্রামে। বোতলা বাজারের পাশে একটি ছোট ঘর করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। তিন বেলা খেতে দেন হেদায়তুল ইসলাম হেদু নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। অন্য প্রতিবেশীরাও ভালো রান্না হলে তাকে দিয়ে যান।ঠিক ১০ বছর দুই মাস আগে হেদায়তুল ইসলাম হেদুর মা মারা যাওয়ায় তিনি দোয়া মাহফিল ও গরীব মানুষের জন্য খাবার আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে এসে খাবার চান এই বৃদ্ধা। খাওয়া শেষে ফিরে না গিয়ে তিনি বসেই থাকেন। কয়েকদিন বাজারের পাশে এখানে ওখানে অবস্থান করতে দেখে স্থানীয়রা তার মাথা গোজার মতো ছোট্ট একটু ব্যবস্থা করে দেন।
রাবেয়ার বড় নাতি নয়ন ইউটিউব ফেসবুকে এসব তথ্য, ছবি ও ভিডিও দেখে পরিবারের সবাইকে দেখান। বড় ছেলে ময়েন উদ্দিন ছবি দেখেই মাকে চিনতে পারেন। নিশ্চিত হন এটাই তাদের হারিয়ে যাওয়া মা রাবেয়া বেগম। তাই পর দিনই ভান্ডারিয়ায় ছুটে যান ছেলে আয়েন উদ্দিন, বোরহান উদ্দিন, মনোয়ার হোসেন ও নাতি হৃদয়। গতকাল সোমবার বৃদ্ধাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাবেয়া বেগমের ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ায় চারদিক থেকে শত শত মানুষ আসছেন তাকে এক নজর দেখার জন্য। ঠিক যেন নববধূও ঘরে ফেরার আয়োজন চলছে বাড়িতে।
গতকাল সোমবার দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ দেখতে আসছেন বৃদ্ধা রাবেয়া বেগমকে। ১৪ বছর পর মাকে ফিরে পেয়ে ভীষণ খুশি তার ১১ সন্তান ও নাতি নাতনীরা।
বড় ছেলে ময়েন উদ্দিন বলেন, এ যে কেমন খুশির সংবাদ তা বলে বোঝানো যাবে না! যার মা নেই, এই আনন্দ শুধু সেই বুঝতে পারবে! এত বছর পর মাকে পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি! মা আমাদের চিনতে পারছেন, এটা অনেক বড় আনন্দের ব্যাপার! বাবা মারা গেলেও মাকে ফিরে পেয়েছি, এটা এক অন্য রকম ভাল লাগার মুহূর্ত আমাদের পরিবারের জন্য!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button