দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ

মুহাম্মদ আব্দুল জলীল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : বুধবার দুপুর ২ টায় মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির আসন গ্রহণ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্হায়ী কমিটির সদস্য জনাব আমীর খুসরু মাহমুদ চৌধুরী। জেলা বিএনপির আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি সাবেক আহবায়ক ও মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি জামিলুর রশীদ খান জামিল, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস,এ, জিন্নাহ কবির, জাতীয়বাদী স্বেচ্ছাসেবক সেবকদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী হাবিব হাসান রিন্টু, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ- সভাপতি মোঃ মোমিনুর রশীদ,জেলা মহিলাদলের সভাপতি সাবিহা হাবিব,সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার মুন্নু, জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু,সদস্য সচিব মোঃ তুহিনুর রহমান তুহিন,মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সজীব, সাধারণ সম্পাদক নুরশাদুল ইসলাম জ্যাকি, জেলা শ্রমিকদলের আবদুল কাদের, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মজলিশ খান মাখন, ঘিওর উপজেলার সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক,সিংগাইর উপজেলার সভাপতি রোমান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্যেন কান্তি ভোজন, ইকবাল হোসেন খান, আব্দুস সালাম বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক এ,এফ,এম,নুরতাজ আলম বাহার, কায়ছার আহমেদ, রফিক উদ্দিন ভুইঁয়া হাবু, আল মামুন, জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতার পিএস,রেজাউল করিম রেজা। সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সভাপতি মোঃ ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুল ইসলাম নুরু, দপ্তর সম্পাদক ডাঃআব্দুল জলীল বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীগণ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, আজ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের দুর্নীতি।
জনগণের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার কারণে বর্তমান সরকারকে ভোটচোর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারসহ যারা ভোটচোরের সহযোগিতা করেছেন তারাও ভোটচোর। আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে বিএনপিসহ সারা দেশের মানুষের দাবি – শেখ হাসিনার পরিবর্তে নিরপেক্ষ সরকার, ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট পেপার। আগামী নির্বাচনের আগেই ইভিএমকে সাগরে নিক্ষেপ করা হবে।
বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আগামীতে ১৪৪ ধারা হোক, ১৪৫ ধারা হোক, কোন ধারা দিয়েই বিএনপিকে আটকিয়ে রাখতে পারবে না। আগামীতে কোনো বাধাই মানবে না বিএনপি। আগামীতে কোনো সভা-সমাবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হবে না। জনগণের জোয়ার এই অবৈধ সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, সার্চ কমিটি গঠন করে যতই নির্বাচন কমিশনার হোক না কেন, বিএনপি আগামীতে নিরপেক্ষ ও তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া এদেশে আর কোনো নির্বাচন হতে দিবে না।
তিনি আরো বলেন, এই অবৈধ সরকার জনগণ দেখে ভয় পায় বলেই সভা-সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। আগামী নির্বাচনের আগেই বিএনপি নেতাকর্মীদের তিনি প্রস্তুত হতে বলেন। সকল বাধা ভেঙ্গে বিএনপি দাবি আদায় করা হবে। এদেশের মানুষ দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। এক ভাগ চোরের পক্ষে আর সারা দেশের মানুষ বিএনপির পক্ষে। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চোরদের ধরতে হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, সরকারের মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট, বিদ্যুকেন্দ্রে লুটপাট ও সরকারি দলের চাঁদাবাজির কারণে আজ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। তারা শুধু সরকারি তহবিল লুটপাট করছে না, তারা ভোটের নামে ভোটচুরি করছে ও মানুষের পকেট চুরি করছে। এদের দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। আর তা করা হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। বিএনপি ভোটের মাঠে থেকে ভোটচোরদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকার থাকুক আর না থাকুক বিএনপি কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন করতে দিবে না। সংবিধানে সভা সমাবেশের অধিকার আছে। কিন্তু যারা সভা সমাবেশের করতে বাঁধা দিচ্ছেন। তারা সংবিধান লংঘন করছেন। আপনাদের বুঝতে হবে হাওয়া কোন দিকে বইছে। যে সুনামী আসছে যে তুফান আসছে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না। আমাদের শপথ নিতে জীবনের বিনিময় হলেও আগামী নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধিন ছাড়া করতে দিবো না। এই সময় কঠিন সময়, আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সংগ্রাম কঠিন সংগ্রাম, এই সংগ্রাম বিএনপির একার সংগ্রাম নয়, এই সংগ্রাম জনগনের সংগ্রাম।
জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে নাই। বিদ্যুৎ, গ্যাস,চাল,ডাল তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সীমাহীন উর্ধগতির প্রতিবাদ জানাই এবং টিসিবির মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে গ্রাম শহরে সর্বত্র পণ্য সরবরাহ করতে হবে। আমার মা বোনেরা ভাল নাই কারণ তারা তার সন্তানদের চড়াদামে নিত্য প্রয়োজনীয় কিনে দিতে পারছে না।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু হয় এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় জেলা বিএনপি নেতা সাইদ কিবরিয়া।




