ঈদগাঁওতে অনুমোদনহীন অবৈধ করাতকলে দিবারাত্রি চিরাই হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ

মোঃ কাউছার ঊদ্দীন শরীফ, ঈদগাঁওঃ কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই প্রায় অর্ধশত স’মিলে (করাত কল) চলছে রমরমা অবৈধ ব্যবসা। এসব মিলে সাবাড় হচ্ছে বনজ, ফলজসহ নানা প্রজাতির গাছ।
অনুমোদনহীন এসব মিল থেকে বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত মাসোহারা আদায় করায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
জানা যায়, বিভিন্ন বনাঞ্চলের হরেক প্রজাতির কাঠ গিলে খাচ্ছে ঈদগাঁও উপজেলার স্থাপিত অবৈধ করাত কলগুলো দিবারাত্রি চিরাই হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। এসব গাছ রাতের আধারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে এনে চিরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রত্যক্ষ মদদ দিচ্ছে স্থানীয় বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা।
বর্ণিত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েকটি স’মিল ঘুরে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারস্থ বাশঘাটায় ৫টি, ইসলামাবাদ ইউছুপেরখীল রাস্তার মাথায় ১টি,ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তার মাথায় ১টি,ইসলামপুরের হাজী পাড়া ১টি,ইসলামপুর বাজারে ২টি, জালালাবাদের বঙ্কিম বাজারে ৩টি,ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পার্শ্বে ২টি, বাজারের ভূমি অফিসের পাশে ১টি, ফরাজী পাড়ায় ৩টি,পোকখালীর পূর্ব গোমাতলী ঘাটঘর এলাকায় ১টি, ঈদগাঁও কালির ছড়া মহাসড়কের পার্শ্বে ১টি, কালিরছড়া বাজারের পশ্চিমে ১টি লাইসেন্স বিহীন করাত কল রয়েছে।
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে কোন প্রকার করাতকল বসানোর নিয়ম না থাকলেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১/২ কিলোমিটার ভিতরে বসানো হয়েছে। এমনকি কয়েকটি স’মিলের বিরুদ্ধে শব্দ দূষণ আইন অমান্য করে ভোর ৬টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
অথচ সংশ্লিষ্ট আইনে লিখা রয়েছে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু রাখা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ১ কিলোমিটার দূরে স্থাপনের নিয়ম থাকলেও মানা হয়নি এ নির্দেশ। যার ফলে প্রতিনিয়ত শব্দ দূষণে ভূগছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যাক্তি জানান,কয়েকটি করাতকলে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা কাঠ চেরাই হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত বনবিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্টদের কোন ধরণের অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, এসব করাত কলের মালিকানায় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকায় সহজে উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বনদস্যু ও বনবিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে করাত কলের মালিকরা রাতের আধারে প্রতিদিন গাছ পাচার করে নিয়ে আসছে। ঈদগাঁও থেকে সামান্য দুরে হওয়ায় বনাঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি কাঠ চিরাই হচ্ছে এ ঈদগাঁও উপজেলায়।
এবিষয়ে ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন জানান, করাতকলের বিরুদ্ধে টাক্সফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করার কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে সহযোগিতা পাওয়া গেলে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌখিক সহযোগিতা ছেয়েছিল, লিখিত ভাবে সহযোগিতা চাইলে দ্রুত ভ্র্যাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নু এ মং মার্মার মং।
অবৈধ ও অনুমোদনবিহীন করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে একটি উচ্ছেদ করা হয়েছে, অবৈধ করাত কলের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান,কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকার।




