
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় মেলার আয় ব্যায়ের হিসাব ২২ দিন পার হলেও মেলা পরিচালনা কমিটি হিসাব দেননি বলে জানায় স্থানীয়রা। এ দিকে হিসাব না দেওয়ায় এলাকায় চলছে সমালোচনার ঝড়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাটাগড় গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, কামাল চেয়ারম্যান ও আজিজার চেয়ারম্যান মেলার হিসাব নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। তারা আরো বলেন, তবে এ বছর মেলার কোন টাকা আজিজার চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া হয়নি। সব টাকায় কামাল চেয়ারম্যানের কাছে সকলে জমা দিয়েছে। মেলা ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলে এবং প্রশাসন অনুমতি দেন।
৫ শত বছরের এই মেলাটি কাটাগর দেওয়ান শাগের শাহ্
মাজারের খাদেমরা কাটাগড় গ্রাম সহ আশপাশের লোকজন নিয়ে মিলিয়ে আসলেও এ বছর রুপ নেয় ভিন্ন। বিগত দিনে মেলায় আসা দোকানদরদের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে মাজারের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়।
এ বছর মেলার আগে প্রশাসনকে না জানিয়ে পার্শ্ববর্তী শেখর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের নেতৃত্বে মেলা কমিটির আহবায়ক রূপাপাত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আজিজার মোল্যা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মাজারের সামনে বসে মেলার মাঠ ডাকে বিক্রি করেন ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
মেলার মাঠ ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হলেও মোট ১৭ লক্ষ টাকা পরিচালনা কমিটি পেয়েছেন বলে কমিটির অনেক সদস্যরা জানান। তবে মেলা কমিটি আহাবায়ক সহ অনেকে বলেন, মেলা পরিচানার মূল দায়িত্বে ছিলেন কামাল আহমেদ। এই জন্য সকল টাকা কামাল আহমেদের কাছে সকলে জমা দেন। সকল খরচ কামাল আহমেদ করেন।
মেলা মেলার আগে কথা ছিল মেলা থেকে যে আয় হবে খরচ শেষে মেলার জমির মালিকদের কিছু টাকা দিবে বাকি টাকা মাজারের উন্নয়নের জন্য মাজারে দেওয়া হবে।
এ দিকে মাজারের খাদেম সিদ্দিক ফকির জানান, মেলার আগে কামাল চেয়ারম্যান আমাদের খাদেমদের কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। মেলার কোন হিসাব তো দেয়ই নাই আমাদের কাছ থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকাও ফেরত দেননি। আমরা ধার করে টাকা দিয়েছিলাম। হিসাব না দিয়ে নয় ছয় করছে।
মেলা কমিটির আহবায়ক, রুপাপাত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কাটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজার মোল্যা বলেন, আমি মেলা কমিটর আহবায়ক ছিলাম কিন্তু সব কিছুর পরিচালনায় ছিলেন চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। মেলার সকল টাকা তার কাছেই জমা দেওয়া হয়েছে। তবে হিসাব দিবো।
চেয়ারম্যান কামাল আহমেদকে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে তার ০১৭১২৫৮৪৩৪৪ মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি রিসিফ না করায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হলো না।



