শিক্ষাশিরোনাম

রাজশাহীর শাহমখদুম মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

রাজশাহীর বেসরকারি শাহমখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত সাত শিক্ষার্থী আহত হন। এদের পাঁচজন ছাত্রী ও দু’জন ছাত্র।
তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মুনীর জানান, শিক্ষার্থীরা থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিতভাবে এ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়মের কারণ দেখিয়ে গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণলয়ের এক চিঠিতে কলেজটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহসিন রায়হান জানান, কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও এটি আবারো চালু হওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল শনিবার পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। এ বিষয়টি জানার পর আমরা এমনিতেই পরিস্থিতি দেখতে ১৫ জন শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাসে যাই। সেখানে মেইন গেটেই আমাদের আটকে দিয়ে কলেজের কর্মচারিরা জানায়, ক্যাম্পাস যেহেতু বন্ধ ডিসেম্বর মাসের আগে ভেতরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি জানান, এ নিয়ে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতন্ডা হয়। এরই এক পর্যায়ে তারা গেট খুলে দেয়। কিন্তু আমরা গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ওপর সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলা করে। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। তারা এটি পরিকল্পিতভাবেই করেছে। সাত শিক্ষার্থী আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীরা বলেন নুসরাত জাহান সুস্মিতা, মেহজাবিন মরিয়ম মেধা, নিসর্গ বালা বিদিশা, জাকিয়া ইয়াসমিন জেবা, ফাউজিয়া আবিদা, রায়হান কবির ও তাহসিন রায়হান আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মুনীর বলেন, করোনার জন্য এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ। দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। ঘটনা শুনেই পুলিশ সেখানে যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী মামলা করতে থানায় এসেছেন। তাদের অভিযোগ শোনা হচ্ছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেছেন, দু’পক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিত ঘটনা। শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল আসছে বলেই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। মূলত পরিস্থিতি ঘোলাটে করার উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা বন্ধ ক্যাম্পাসে যায়। তারা সেখানে অস্থিতিশীল একটা পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়েই গিয়েছিল।
এ ঘটনার পর শুক্রবার রাতে পতিষ্ঠানেরর ব্যবস্থাপনা পরিচালক চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগের টিম আসার সময় নিরাপত্তারও দাবি জানানো হয়েছে।
শাহমখদুম মেডিকেল কলেজে এ পর্যন্ত ২২৫ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণলয়ের উপসচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কলেজটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের অন্য যে কোনো মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয় এই আবেদন গ্রহণ করেছে। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল শনিবার কলেজটি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।
সুত্র : দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button