খেলা

এ যেন রূপকথার এক ফাইনাল!

এ যেন হুবহু কোনো থ্রিলার সিনেমার শেষ দৃশ্য। উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনার পারদে একেবারে ঠাসা। রোববার রাতে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক আর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে টিভি সেটে চোখ রাখা কোটি কোটি ক্রিকেটভক্ত দেখল আইপিএলের রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল। ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টানো ম্যাচে কোনো কিছুরই যেন কমতি ছিল না। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচটাকে অতি নাটকীয় বললেও যেন কম বলা হবে! জেতার জন্য ম্যাচের শেষ বলে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন দুই রান। এক রান করলে ফাইনাল গড়াবে সুপার ওভারে, আর ডট বল করলে জিতবে মুম্বাই। বল হাতে মুম্বাইয়ের অভিজ্ঞ তারকা লাসিথ মালিঙ্গা। ইয়র্কার লেন্থে করা উইকেট সোজা শেষ বলটা চালিয়ে খেললেন চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যান শার্দুল। কিন্তু ব্যাট বলের লাইন মিস করলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। আর সঙ্গে সঙ্গেই শিরোপার উল্লাসে মেতে ওঠে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস শিবির। একেবারে খাদের কিনারা থেকে এক রানে ফাইনাল জিতে আইপিএলে সর্বোচ্চ চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো মুম্বাই।
ফাইনালের নাটকটা জমে ওঠে শেষ তিন ওভারে। এ সময় জেতার জন্য চেন্নাইয়ের ১৮ বলে প্রয়োজন ছিল ৩৮ রান। উইকেটে সেট ব্যাটসম্যান শেন ওয়াটসন, সঙ্গী বিপজ্জনক ডোয়াইন ব্রাভো। ক্রুনাল পান্ডিয়ার ১৮তম ওভার থেকে তিন ছক্কাসহ ২০ রান নেন ওয়াটসন। ম্যাচটা হেলে পড়ে ছয় উইকেট হাতে থাকা চেন্নাইয়ের দিকে। ১৯তম ওভারে দলের সেরা বোলার জাসপ্রিত বুমরাহর হাতে বল তুলে দেন মুম্বাই অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্রাভোর উইকেট তুলে নেন বুমরাহ। এর পরের তিন বলে আসে মাত্র চার রান। ব্যবধান বেড়ে সাত বলে ১৩ রান প্রয়োজন হয় চেন্নাইয়ের। কিন্তু বুমরাহর করা ওভারের শেষ বলে মারাত্মক এক ভুল করেন উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক। রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাটে চুমু লেগে সোজা হাতে যাওয়া বলটা অবিশ্বাস্যভাবে ডি ককের দুহাত গলে উইকেটের পেছন দিয়ে বাউন্ডারি সীমানা পেরিয়ে যায়। উইকেট পাওয়ার বদলে চার রান গুনতে হয় মুম্বাইকে।
শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন লাসিথ মালিঙ্গা। প্রথম বলে এক রান নেন ওয়াটসন। দ্বিতীয় বলে দুই হাত দূর থেকে রবীন্দ্র জাদেজাকে রানআউট করতে ব্যর্থ হন মালিঙ্গা। তৃতীয় বলে আসে দুই রান। কিন্তু চতুর্থ বলে আবার ম্যাচ ঘুরে যায়। দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হন চেন্নাইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৮০ রান করা ওয়াটসন। পঞ্চম বলে দুই রান এলে শেষ বলে দুই রানের প্রয়োজন পড়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের। কিন্তু আইপিএলের এবারের আসরের শেষ বলে মালিঙ্গার ইয়র্কারে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে যান শার্দুল ঠাকুর।
এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাই অধিনায়ক। দুই ওপেনার ডি কক ও রোহিত শর্মা ভালো শুরু করলেও দলীয় ৪৫ রানে দুজনকেই পরপর হারায় মুম্বাই। একপর্যায়ে পঞ্চদশ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০১ রান তুলে ধুঁকছিল রোহিতের দল। তবে কিয়েরন পোলার্ডের ২৫ বলে অপরাজিত ৪১ রানের ওপর ভর করে ১৪৯ রানের মাঝারি স্কোর পায় মুম্বাই। চেন্নাইয়ের দীপক চাহার তিনটি এবং শার্দুল ঠাকুর ও ইমরান তাহির দুটি করে উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরু করে চেন্নাই সুপার কিংস। তবে ওপেনার ফাফ ডু প্লেসি ২৬ রান করে আউট হওয়ার পর দ্রুত আরো দুটি উইকেট হারায় চেন্নাই। দলীয় ৮২ রানে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি রানআউট হলে বড় ধাক্কা খায় চেন্নাই শিবির। তবে লক্ষ্যে অবিচল থেকে খেলতে থাকেন শেন ওয়াটসন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ব্রাভোর সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান চেন্নাইকে। কিন্তু ওয়াটসনের করা ম্যাচের সর্বোচ্চ ৮০ রানের ইনিংস বৃথা যায় মালিঙ্গার অসাধারণ এক ওভারে।
আগের তিন ওভারে ৪২ রান দিলেও শেষ ওভারে নিজের ভেলকি দেখান অভিজ্ঞ এই শ্রীলঙ্কান বোলার। তবে মুম্বাইয়ের জয়ের আসল নায়ক পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। মহাগুরুত্বপূর্ণ ১৯তম ওভারে ব্রাভোর উইকেট নেওয়া ছাড়াও দুর্দান্ত বল করে চেন্নাইয়ের জয়টাকে কঠিন করে তোলেন ডানহাতি এই পেসার। আর পুরো ম্যাচে চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়ে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হন বুমরাহ। এনটিভি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button