সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল রেল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী ‘বড়ছড়া ব্রিজ’ এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ৪ জনের মৃত্যু হয়। রবিবার রাত (২৩ জুন) ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
অথচ আজ থেকে প্রায় ৪ মাস আগেও ওই ব্রিজে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ সচেতনতা পোস্ট দিয়েছিলেন ফাজু চৌধুরী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেন, ‘বরমচাল বড়ছড়া সেতুর পাশে ঢাকা সিলেট রেল লাইনে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।’
তার এই স্ট্যাটাসের পর স্থানীয় এবং প্রবাসী যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। কেউ কেউ নিজেদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরমধ্যে সৌদি প্রবাসী লুৎফুর রহমান রাজু, ফ্রান্স প্রবাসী ম্যাক নজির, ফ্রান্স প্রবাসী খায়রুল ইসলাম, কাতার প্রবাসী নোবেল প্রমুখ।
ফাজু চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী গ্রামে আমাদের বসতবাড়ি। কালামিয়ার বাজারে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা এই রেললাইনের ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করি। অনেকদিন ধরে এই রেললাইনের স্লিপারে ক্লিপ ছিল না, তার দিয়ে জোড়াতালি দেয়া ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই স্ট্যাটাস দেয়ার পর আমি স্থানীয় মনসুর আলম চৌধুরী সুলতান, লাইনম্যান আব্দুল জলিল, স্টেশন মাস্টার কাজল ভাইকে বিষয়টি অবহিত করি। এর ৩দিন পর স্টেশন মাস্টারকে জিজ্ঞাসা করলে উনারা আমাদের বলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
এদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের খবর পেয়ে স্থানীয় বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের কয়েকশ মানুষের পাশাপশি ফাজু চৌধুরী নিজেও উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তার আক্ষেপ, ওই দিন তার ফেসবুক পোস্ট অথবা তাদের তথ্যের ভিত্তিতে যদি রেলকর্তৃপক্ষ বিষয়টির সমাধানে উদ্যোগ নিত তাহলে হয়তো অকালে ৪টি প্রাণ ঝড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেত।




