খেলা

৩ বছর পর পদত্যাগের কারণ জানালেন ফারুক আহমেদ

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ছিলেন। ২০১৬ সালে নির্বাচকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। বছর তিনেক পর সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন সরে আসার কারণ, কথা বলেছেন দলের ভেতর বাইরের বর্তমান অস্থিরতা নিয়েও। চট্টগ্রামে দলে টিম হোটেলে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। লম্বা সময়ের আলাপে নিজের পদত্যাগ নিয়ে বলতে গিয়ে তুলে ধরেন বাস্তবতা।
মূলত তার সময়েই শুরু হয় দ্বি-স্তর বিশিষ্ট নির্বাচক প্যানেল। যা পছন্দ হয়নি ফারুক আহমেদের, না হওয়ার পেছনে দিয়েছেন ব্যাখ্যাও।
‘এখনতো নির্বাচক অনেকেই। এখানে বোর্ড পরিচালক নির্বাচক, ম্যানেজার নির্বাচক, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ থেকেও আছে নির্বাচক। আমি যখন ইস্তফা দেই তখন দুজন ছিল নির্বাচক, খালেদ মাহমুদ ছিল ম্যানেজার হিসেবে নির্বাচক। সাথে পরিচালনা বিভাগের প্রধানও নির্বাচকের ভূমিকায় থাকবেন সমন্বয়ক হিসেবে। আসলে নির্বাচকতো অনেকজন, একজন নয়। বিষয়টা ইতিবাচক হলে থাকতাম, আমি জানতাম সাফল্য আসলে সবাই কৃতিত্ব নিতে চাইবে। ব্যর্থতা আসলেই একজন আরেকজনের দিকে আঙুল তুলবে।’
বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে অস্থিরতা। লম্বা স্কোয়াডে নতুন মুখ আসে আবার না খেলেই পরের সিরিজে উধাও। আবার নতুন কেউ আসে, কারণ ছাড়াই বাদ পড়ে। মূলত নির্বাচকদের জবাবদিহিতার অভাব বলেই এমনটা হচ্ছে মনে করেন সাবেক নির্বাচক।
‘কিছু প্রশ্ন উঠেছে আমাদের দল নির্বাচন হোক বা অন্য কিছু নিয়ে। নির্বাচনের দায়িত্ব এমন কাউকে দিতে হবে যে নিজের দায়বদ্ধতা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ কেউ সুযোগ পেলে কি কারণে পেল কিংবা বাদ পড়লে কেন বাদ পড়লো এই ব্যাখ্যা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা এরকম দেখছিনা।’
জাতীয় দলে ডাকা ক্রিকেটাররা আসে প্রতিভা প্রমাণ করেই। ফলে আন্তর্জাতিক পরিবেশে দুই এক ম্যাচ খারাপ করা মানেই ভবিষ্যত অন্ধকার ধারণা করার কোন কারণ দেখেননা ফারুক আহমেদ। আর এমনটা হলে দলের ভারসাম্যও নষ্ট হয় বলে মনে করেন তিনি।
‘কিছু ক্রিকেটার আছে এসে মানিয়ে নিতে পারে। মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, সে এসেই পারফর্ম করে অন্য জায়গায় পৌঁছেছে। অন্য কাউকে হয়তো সময় দিতে হতে পারে। যদি কাউকে কোন পজিশনের জন্য দরকার মনে হয় তাকে অন্তত ৫-৭ ম্যাচে ওই পজিশনে সুযোগ দিতে হবে। ব্যাক করার জন্য অন্তত নির্বাচক থাকবে যিনি ব্যাখ্যা দিবেন ওকে এই কারণে নেওয়া কিংবা না নেওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায় কাউকে এক ম্যাচ খেলিয়ে বাদ দিয়ে দেয়া হয়, যা দলের ভারসাম্যও নষ্ট করে।’
দলে অটো চয়েজ হাতেগুনো কয়েকজন। ফলে কাউকে নিশ্চিত করতে হলে সময় দিতে হবে, তরুণদের কাছ থেকে লম্বা সময়ের সার্ভিস পেতে ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করার পক্ষে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা এই নির্বাচক।
‘এটা দলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের মূল ক্রিকেটার মাত্র ৪-৫ জন। এর বাইরে ৬-৭ নম্বরে কারা আছে তা বলা মুশকিল। এটা দলে জায়গা পাওয়া তরুণদের জন্য ভালো হচ্ছেনা। তরুণরা এসেই পারফর্ম করতে চায় দলে জায়গা পোক্ত করতে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। যখন ঘরোয়া থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যায় সেটা কিন্তু বড় পদক্ষেপ। সেখানে আমাদের ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে হবে।’

পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button