Uncategorized

হারাগাছে বিড়ি শ্রমিকদের সাথে মালিক পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৭

রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরের হারাগাছে বিড়ি শ্রমিকদের সাথে মালিক পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হারাগাছে একটি বিড়ি ফ্যাক্টরির সামনে এই ঘটনা ঘটে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত এক সপ্তাহ থেকে হারাগাছের বিড়ি শ্রমিকরা অন্দোলন ও ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে মালিক পক্ষ বলছে মালিকদের সাথে কোন কিছু হয়নি। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী শ্রমিক নেতা তাদের কাজে বাধা দিলে এই ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকরা জানায়, প্রতি হাজার বিড়ি ও প্যাকিং মজুরি ৮০ টাকা হারে বৃদ্ধির দাবিতে হারাগাছ যৌথ বিড়ি শ্রমিক ইনিয়নের ডাকে গত ২৪ নভেম্বর থেকে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন শুরু করেন। শ্রমিকরা কয়েকদিন থেকে হারাগাছের মায়া বাজার, হরিণটারী, দালালহাট, নতুন বাজার, পাইকার বাজার, ডারারপাড় বিভিন্ন এলাকায় মিশিল সমাবেশ করেন।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি বলেন, বিড়ি ও প্যাকিং শ্রমিকরা প্রতি হাজার বিড়ি ও প্যাকিং মজুরী ৪২ টাকা ৫০ পয়সা হারে পাচ্ছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই টাকায় শ্রমিকদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন ধারন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই আমরা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির জন্য দুই সপ্তাহ আগে বিড়ি শিল্প মালিকদের মজুরী বৃদ্ধির চিঠি দিয়েছি। হারাগাছের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছি। বিভিন্ন বিড়ি ফ্যাক্টরীতে লিফলেট বিতরণ করেছি। মালিকদের সারা না পেয়ে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রমিকদের সাথে মালিক পক্ষের লোকজনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ও ইটপাটকেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে আবুল ও মঞ্জুসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
এ ব্যাপারে রংপুর জেলা বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ডিনার বলেন, মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষের কোন ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকরা ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে এসেছিল। এসময় বেশ কয়েকজন নামধারি নেতা শ্রমিকদের কাজে বাঁধা দেয়। এসময় একটু উত্তেজনা দেখা দেয়। তিনি বলেন, একটি মহল ষড়যন্ত্র করে হারাগাছের বিড়ি শিল্পকে ধ্বংশের পায়তার করছে। বিড়ি মালিকরা ওই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নির্যাতিত হচ্চেন।
হারাগাছ থানার ওসি শওকত চৌধুরী জানান, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা বেশ কয়েকদিন থেকে আন্দোল করছিল। বৃহস্পতিবার এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে সাথে সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button