
রতন রায়হান, রংপুর: রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানার চরচতুরা কলমদারপাড়ায় এক বিধবা নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, গর্ভপাত করানো, অপহরণ ও জোরপূর্বক বিবাহ দিতে বাধ্য করার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ একাধিক ধারায় রুজুকৃত এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন হারাগাছ থানার সাব-ইন্সপেক্টর মনিষ সরকার।
এদিকে মামলার ৭নং আসামি মোঃ শফিকুল মিয়া (২৫), পিতা–মোঃ শাহেদুল ইসলাম, সাং–চরচতুরা কলমদারপাড়া—কে পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে থানার সূত্রে জানা গেছে।
এজাহারসূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর অভাব-অনটনের মধ্যে ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম (৩৮) প্রতিবেশী সোলেমান ভাকরার বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করতেন। এ সুযোগে ১নং আসামি হাছেন আলী তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ এপ্রিল ২০২৫ বিকেল প্রায় ৩টা ৩০ মিনিটে তার বাড়ির শয়নঘরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হলে আসামি তাকে গর্ভপাত করাতে চাপ দিতে থাকেন এবং অমান্য করলে হত্যার হুমকি দেন। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে হাছেন আলী কৌশলে ভুক্তভোগীকে হারাগাছ মেরি স্টোপ ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান। ঘটনার বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে ১, ২ ও ৩ নং আসামিসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে নারীটিকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে সরলখাঁ ঝাকুয়াটারীতে আরিফুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীকে ওলিউল্ল্যাহ (চিকা)-এর সঙ্গে জোরপূর্বক বিবাহ দেয়া হয়। সেখানে ৪৫ দিন আটক থাকার পর ১৪ নভেম্বর কৌশলে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে আসামিরা তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুতরতা বিবেচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৯(১)/৩০ ধারা, পেনাল কোডের ৩১৩/৩৪৭/৩৪/৫০৬(২) ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজাদ রহমান বলেন, “এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”




