প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ হজ পালন করতে পবিত্র মক্কায় যান। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্রতম স্থানের মধ্যে মক্কার অবস্থান সর্বপ্রথম। ইসলামের ৫টি মূল ভিত্তির অন্যতম হল হজ। পবিত্র হজ পালন করার জন্য মুসলমানদের মক্কায় আসতে হয়। এছাড়াও ওমরাহ পালন করতেও পবিত্র মক্কায় আসতে হয় মুসলমানদেরকে। এখানে যারাই হজ বা ওমরাহ করতে আসেন তাদের সবারই একটি ইচ্ছা থাকে তা হলো, পবিত্র কাবা ঘরের এক কোণে রাখা পবিত্র কালো পাথর বা হাজারে আসওয়াদে স্পর্শ বা চুম্বন করা।
এই বিখ্যাত কালো পাথর জিবরাইল আ. নিয়ে এসেছিলেন হযরত ইবরাহিম আ. এর কাছে। এই পাথরের সামনে ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তারক্ষীরা অবস্থা করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে যিনি নিযুক্ত থাকেন তিনি হাজীদেরকে এই পাথরের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন।
আর প্রতি ঘন্টায় দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীদের বদল করা হয়ে থাকে যাতে করে তারা সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তাদের প্রধানকাজ হল কালো পাথরের দেখাশুনা করা আর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা প্রদান করা।
হাজারে আসওয়াদের দায়িত্বে থাকা প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, হাজারে আসওয়াদ দেখাশুনার জন্য ২৪ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। তাদেরকে কাজে নিয়োগের আগে বেশ কিছু বিষয় দেখে নেওয়া হয়। প্রথমত তারা এই কাজ করতে পারবে কিনা? তারা শারীরিকভাবে উপযুক্ত কিনা? সর্বোপরি এখানকার তাপ ও মানুষের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা আছে কিনা? এ বিষয়গুলো দেখা হয়।
পবিত্র মসজিদুল হারামের সাধারণ প্রেসিডেন্সির কর্মকর্তারা প্রত্যেক নামাজের শেষে শুধু কাবা পবিত্র পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য গোলাপজল, সুগন্ধিসহ বিভিন্ন ধরণের বিশুদ্ধকরণ জিনিস ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া মসজিদুল হারামও প্রতি ২৪ ঘন্টায় ধৌত করা করা হয়।
বেশিরভাগ মানুষ হাজারে আসওয়াদকে একটি পাথর মনে করলেও এটি আসলে ৮টি ছোট ছোট পাথরের সমষ্টি। সবগুলো পাথরকে একত্রে ঢালাই করে রাখা হয়েছে।
হাজারে আসওয়অদ বা কালো পাথরটি কাবা ঘরের পূর্ব কোণায় অবস্থিত। কাবার দেয়ালে স্থাপন করা হাজারে আসওয়াদ মাটি থেকে দেড় মিটার উপরে রয়েছে। এটি একটি বিশুদ্ধ রুপার পাত দ্বারা মোড়ানো আছে।
হাজারে আসওয়াদ থেকে সাধারণত তাওয়াফকারীরা তাদের তাওয়াফ শুরু করেন। একবার কাবা প্রদক্ষিণ করে তাওয়াফকারীরা হাজারে আসওয়াদ স্পর্শ করতে বা চুম্বন করতে চান।
আল আরাবিয়া।



