মোঃ আব্দুর রব মনসুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলাকে কেন্দ্র করে চরম অব্যবস্থাপনা ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মেলা এলাকার ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজ বয়ে আনলেও, স্থানীয় সড়কগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের স্বাচ্ছন্দ্য ও অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভোক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মেলা চলাকালীন সময়ে সোনামুখী ব্রিজ থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত সামান্য কয়েক মিনিটের পথ পার হতে সাধারণ মানুষের ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। মাগরিবের পর থেকে এই এলাকায় যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে, যা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূলত তিনটি প্রধান কারণে মেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে:
১. অবৈধ মোটরসাইকেল গ্যারেজ: সোনামুখী ব্রিজের পর থেকে সিএনজি স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রধান সড়কের উভয় পাশ দখল করে অবৈধ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ বসানো হয়েছে। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
২. নিয়মহীন অটোরিকশা পার্কিং: রাস্তার দু’পাশে যেখানে-সেখানে অটোরিকশা পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করানোর ফলে পেছনের যানবাহনগুলো দীর্ঘ সারিতে আটকে পড়ছে।
৩. ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল: মেলা চলাকালীন জনাকীর্ণ ও সংকীর্ণ রাস্তায় বালুবাহী ভারী ড্রাম ট্রাকগুলোর অবাধ ও বেপরোয়া চলাচল এই যানজট ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মেলার আনন্দ যেন সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য মেলা পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সচেতন মহল তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন:
• স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ: মেলার মূল সড়ক ও ব্রিজের পর থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক যানজটমুক্ত রাখা।
• ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে মেলা চলাকালীন সময়ে (বিশেষ করে বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত) এলাকায় বালুর ড্রাম ট্রাক প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
• অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ: সড়কের পাশে এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠা মোটরসাইকেল গ্যারেজ ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড দ্রুত শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা।
ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের সুনাম ধরে রাখতে এবং জনভোগান্তি দূর করতে মেলা পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

