সেঞ্চুরি দিয়ে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা জাগালেন আশরাফুল

‘আশার ফুল’ আশরাফুল তো হারিয়ে যেতে পারেন না- তা জানান দিতেই যেন সেঞ্চুরি করে বসলেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সেঞ্চুরির মাধ্যমে তিনি আবার ফেরার সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেন। ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ফাঁদে যে প্রতিভা আড়ালে চলে গিয়েছিল, আজ মঙ্গলবার সেঞ্চুরি করে তিনি জানালেন, তিনি আছেন। তার উপস্থিতি মানেই যে উত্তেজনা আর রানের চাকা তীব্রগতিতে ছুটে চলা ছিল, তা ফিরে আসছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আশরাফুল মানেই দারুণ উত্তেজনা, রানের চাকা দুর্দান্ত গতিতে সচল থাকা। সেই আশরাফুল ক্রিকেট থেকে ছিটকে গেলেন পড়ে। ক্রিকেট থেকে ছিটকে গেলেন দীর্ঘ সময়ের জন্য।
চলতি বছরের আগস্টেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিষেধাজ্ঞাও কেটে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এরপরই তিনি জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন। তারই প্রস্তুতি হিসেবে ঘরোয়া লিগ তথা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে খেলছেন আশরাফুল।
আজ যখন কলাবাগানের হয়ে তিনে নেমেছিলেন, ১২ রানেই তাসামুল হককে হারিয়ে ফেলেছে কলাবাগান। এরপর ৪৭ রানে হারায় তিন উইকেট। তাইবুর রহমানকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ঘুরে দাঁড়ান আশরাফুল। দুজন মিলে যোগ করেছেন ১৮৮ রান। ৬৯ বলে ফিফটি করেছিলেন আশরাফুল, সেঞ্চুরির জন্য খেলতে হয়েছে ১২৪ বল। শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে ১০৪ রান করে আউট হয়ে গেছেন, যাতে ছিল ১১টি চার। সেঞ্চুরি পেয়েছেন তাইবুরও, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১১৪ রানে। ৫০ ওভারে কলাবাগান করেছে ২৯০।
লিস্ট এ ক্রিকেটে আশরাফুলের প্রথম তিনটি সেঞ্চুরিই বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সেই ইনিংস তো ক্রিকেট স্বপ্নময় ইনিংস হয়ে রয়েছে। এরপর সেঞ্চুরি পেয়েছেন আরব আমিরাত ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১০ সালের নভেম্বরে জাতীয় ক্রিকেট লিগে ঢাকার হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন খুলনার বিপক্ষে। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ এ দলের হয়ে লিস্ট এ ম্যাচে করেছিলেন নিজের সর্বশেষ সেঞ্চুরি।
দুই বছর পর স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন, সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার ফিরেছেন প্রিমিয়ার লিগে। এবার প্রথম দুই ম্যাচে ১৪ ও ২৫ করলেও আজ পেলেন সাফল্য। সেই সঙ্গে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫ হাজার রানও হয়ে গেছে তার।




