উপমহাদেশশিরোনাম

সীমান্তে ট্যাংক-মিসাইল নিয়ে হাজির চীনা বাহিনী

ভারত-চীন সীমান্তের পূর্ব লাদাখের বিতর্কিত অংশ থেকে সেনা সরাতে সম্মত হয়েছে ভারত ও চীন। তবে এখনো প্যাংগং লেকের উত্তর তীরে অবস্থান করছে বিশাল সংখ্যায় চীনা পদাতিক বাহিনী। রয়েছে অস্ত্রবাহী গাড়ি-সহ বিশাল এয়ার ডিফেন্স ইউনিট।
প্রায় ৩০০০ পদাতিক বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে ট্যাংক ও অন্যান্য সমরাস্ত্র। প্যাংগংয়ের উত্তর তীরে চীনা বিমান বাহিনীরও শক্তিশালী শাখা উপস্থিত রয়েছে। সেখানে বড় সংখ্যায় রয়েছে এইচকিউ-১৬ মিডিয়াম রেঞ্জের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল।
পূর্ব লাদাখে সংঘাত এড়াতে ইতোমধ্যেই বড় পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত ও চীন। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে ভারত এবং চীনা বাহিনী। ৬ নভেম্বর কোর কম্যান্ডার স্তরের অষ্টম দফার বৈঠকে প্যাংগং হ্রদ লাগোয়া অঞ্চলে ‘মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পিছনো’ (ডিসএনগেজমেন্ট) এবং ‘সেনা সংখ্যা কমানো’ (ডিএসক্যালেশন) সংক্রান্ত তিনটি পদক্ষেপের বিষয়ে ‘ইতিবাচক আলোচনা’ হয়েছে বলে সূত্রে খবর।
ডিসএনগেজমেন্ট এবং ডিএসক্যালেশন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য যৌথভাবে চালকহীন বিমান বা ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে বৈঠকে দু’তরফই সম্মতি দিয়েছে। তবে গালওয়ান পর্বের কথা মাথায় রেখে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির বিষয়ে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না দিল্লি।
সূত্রের খবর, গত এপ্রিল-মে মাসের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে দু’দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে একমত হয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্যাংগং এলাকায় ডিসএনগেজমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু সিদ্ধান্তও নেন তারা। পূর্ব লাদাখের ওই এলাকায় দু’বাহিনী এখন ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি (ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল)-সহ নানা ভারী সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সেগুলি পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ের পদক্ষেপের মূল বিষয়, প্যাংগং হ্রদের উত্তর তীরে ডিএসক্যালেশন প্রক্রিয়া। সেখান থেকে প্রতিদিন ৩০ শতাংশ করে সেনা সংখ্যা কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে দু’পক্ষ।
আলোচনায় স্থির হয়েছে, ভারতীয় ফৌজ তাদের ধন সিং থাপা পোস্ট লাগোয়া উঁচু অবস্থানে থাকবে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ফিঙ্গার এরিয়া-৮-এর কিছুটা পূর্বে সরে যাবে। প্যাংগং হ্রদের উত্তরে ফিঙ্গার-৫ থেকে ফিঙ্গার-৮ পর্যন্ত এলাকায় ভারতীয় সেনা যাতে আগের মতো টহল দিতে পারে, সেই দাবি শুক্রবারের বৈঠকে তোলা হয়েছিল। এপ্রিল পর্যন্ত ওই পথে টহল দিত ভারতীয় সেনা। কিন্তু এর পর চীনা সেনা হ্রদের তীর বরাবর ফিঙ্গার-৫ পেরিয়ে এগিয়ে আসে।
তৃতীয় পর্যায়ে ‘সংঘাতের নয়া ক্ষেত্র’, প্যাগংয়ের দক্ষিণ তীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনা পিছনোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। অগস্ট মাসে ওই এলাকায় এলএসি লাগোয়া রেচিন লা, রেজাং লা, কালা টপ-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ‘স্ট্র্যাটেজিক পজিশন’-সহ উঁচু গিরিশিয়াগুলিতে অবস্থান নিয়েছিল ভারতীয় সেনা। ফলে প্যাংগংয়ের দক্ষিণে স্পাংগুর হ্রদ লাগোয়া উপত্যকায় মোতায়েন চীনা বাহিনীও চলে এসেছে ‘নাগালে’। চাপে পড়েছে পিএলএ।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button