সিলেটের মাঠে খেলা, ঘণ্টা বাজাল ‘বাইরের’ কেউ!

দেশের অষ্টম টেস্ট ও বিশ্বের ১১৬তম ভেন্যু হিসেবে শনিবার (০৩ নভেম্বর) অভিষেক হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। সকাল সাড়ে নয়টায় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশ বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে।
টাইগারদের হয়ে আবু জায়েদ রাহী প্রথম বলটা করতে দৌঁড় শুরু করার আগেই ৫ মিনিট বাজানো হয় বিশেষ ঘণ্টা। লর্ডস আর ইডেন গার্ডেন্সের মত ভেন্যুগুলোতে যেভাবে ঘণ্টা বাজিয়ে শুরু করা হয় টেস্ট ক্রিকেট, সেই আদলে এবার বাংলাদেশেও ঘণ্টা বাজানো হলো। আকরাম খানের ঘণ্টা বাজানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় সিলেটের টেস্ট যুগ।
আবু জায়েদ রাহীর এক-একটি বল মিস টাইমিং হচ্ছে, আর গ্যালারিতে ভেসে উঠছে হতাশা ভরা মুখ। ঘরের ছেলে কখন উইকেট পাবেন, সেই অঙ্ক মেলাতে থাকেন দর্শকরা। লাঞ্চের পর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ৫২ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ঘরে ফেরান তিনি।
চলতি টেস্টে মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মুমিনুল হকের মতো খেলোয়াড় থাকলেও নেই বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি টেস্ট খেলেন না, তবুও মাঠে পতাকা হাতে খেলা দেখতে এসে মাশরাফিকে খুঁজে বেরাচ্ছেন তারই এক ভক্ত। নাম আরিফ। বলেন, টেস্টে মাশরাফি ভাই খেললে আমরা সহজেই জিতে জেতাম। ইশ, যদি মাশরাফি ভাই এখানে খেলতেন।
গ্রিন গ্যালারির ঠিক উপরের সাড়িতে বসে খেলা দেখছিলেন এক লন্ডন প্রবাসী। গত সপ্তাহে দেশে ফেরা এই প্রবাসীর ইতিহাসের স্বাক্ষী হতেই স্টেডিয়ামে আসা। চলতি টেস্টের প্রতিদিনই গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করার ইচ্ছা জুনায়েদ নামের এই ক্রিকেট ভক্তের।
বলেন, প্রথম টেস্ট বলেই এখানে আসা, বিষয়টা তেমন নয়। আমি ক্রিকেট ভালোবাসি, বাংলাদেশ দল যখন ইংল্যান্ড যায় তখনও আমি মাঠে যাই। এবার ইতিহাসের স্বাক্ষী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি।
মাঠেই খেলা উপভোগ করছিলেন এক দম্পতি। তামিমের বড় ভক্ত এই দম্পতি হতাশা নিয়েই এসেছেন খেলা দেখতে। প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা যে দেখা হলো না তাদের।
শুধু আনন্দ নয়, ক্ষুব্ধতাও ঝরল গ্যালারিতে। সিলেটের ক্রিকেটাররা উপস্থিত থাকার পরও আকরাম খানকে দিয়ে ঘণ্টা বাজানোতেই কিছুটা ক্ষোভ স্থানীয় ক্রিকেট সমর্থকদের মনে। ঘণ্টা বাজানোর মুহূর্তে আকরাম খানের পাশে হাসিবুল হোসেন শান্ত উপস্থিত থাকলেও রাজিন সালেহ ও এনামুল হক জুনিয়ার ছিলেন না। অথচ জাতীয় লিগ থেকে তাদের সিলেটে উড়িয়ে আনা হয়েছিল এই উপলক্ষে যোগ করার জন্য। শুরুতে তাদের দিয়ে ঘণ্টা বাজানোর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আকরাম খানকে নির্বাচন করে বিসিবি।
ঘণ্টা বাজানোর সম্মান না পেলেও রাজিন-এনামুলদের সংবর্ধনার ব্যবস্থা করেছে বিসিবি। লাঞ্চ বিরতির সময় মাঠে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। টসের পর বিসিবি পরিচালকদের সামনে ঘণ্টা বাজান আকরাম খান।
সিলেটের মাঠে খেলা, অথচ ঘণ্টা বাজানো হলো ‘বাইরের’ কাউকে দিয়ে- বিষয়টা মানতে পারছেন না পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যবসায়ী। তার প্রশ্ন, আমাদের এখানে কি তারকা ক্রিকেটারের অভাব আছে?
তিনি বলেন, শান্ত, রাজিন, অলক, এনামুল সবাই জাতীয় দলের সেরা পারফরমার। তাদের কাউকে দিয়ে তো ঘণ্টা বাজানো যেত। আমি এই বিষয়টা মেনে নিতে পারছি না।
২০১৪ সালে ১৮ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন সিলেটের এই স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৪ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ৬টি ও চলতি বছরে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সিরিজের একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছিল এখানে। চার বছরের অভিজ্ঞতা জমিয়ে অবশেষে এবার ক্রিকেটের অভিজাত আঙিনায় নাম লিখে ফেললো সিলেট স্টেডিয়াম।



