সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ‘আতিয়া মহল’ নামে যে বাড়িতে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান হয়েছিল, সেই বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের তখন বলেছিলেন, সেখানে তারা আর থাকতে পারবেন না।
কারণ, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বাড়িটির এতই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যে এটি আর বাসযোগ্য নেই।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলার সময় ঐ ভবনে বহু বিস্ফোরণ ঘটে এবং ব্যাপক গোলাগুলি চলে। অভিযান চলার সময় এবং পরে ১১ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল ।
বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন র্যাব, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অনেকেই। জঙ্গিদের বিস্ফোরণ এবং গুলি বর্ষণের মাঝে নিরাপত্তা বাহিনী আতিয়া মহলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়।
এটি করতে গিয়ে বাড়িটির অনেক ফ্ল্যাটের দেয়াল শাবল মেরে ভেঙ্গে ফেলতে হয়।
পাঁচ-তলা আতিয়া মহলের প্রতিটি তলায় ছয়টি করে ফ্ল্যাট রয়েছে।
এর মধ্যে বহু ফ্ল্যাটের ভেতরে গোলাগুলির চিহ্ন ছিল।

এই বাড়ির নীচ তলায় একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্তানা ছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনী বলেছিল।
সন্দেহভাজন জঙ্গিরা যে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিল, অভিযানের পর সেখানে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় সবই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
ঘরের আসবাবপত্র, সিলিং ফ্যান ইত্যাদি কিছুই বাদ যায়নি।

একদফা জঙ্গিদের বিস্ফোরণ এবং পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও রকেট হামলায় বিশেষভাবে ঐ ফ্ল্যাটটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়।
পুরো ভবনটায় যে পরিমাণ বিস্ফোরক ছিল তাতে ভবনটা ধ্বংস হয়ে যেতে পারতো বলে সেনা কর্মকর্তারা সে সময় জানিয়েছিলেন।

আতিয়া মহলের মালিক উস্তার আলী এক বছর আজ রবিবার বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বাড়ী নতুন করে মেরামত করার আগে সেনাবাহিনীর একটা টিম এসেছিল সাথে মি. আলীর ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।
“সবাই সব কিছু পরীক্ষা করে দেখেছে যে মূল কাঠামোয় কোন আঘাত লাগেনি তাই দেয়াল এবং অন্যান্য দিক মেরামত করে বসবাস করা যেতে পারে বলে তারা অনুমতি দিয়েছিল”।
মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে এবং আগের অবস্থায় ফিরে নিয়ে যেতে প্রায় এক বছর লেগেছে। সেখানে ৩০ টা ফ্ল্যাট রয়েছে।

প্রতিটি ফ্ল্যাটে রয়েছে ভাড়াটিয়া। এমনকি নীচের যে ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা অবস্থান করছিলো সেখানে ভাড়াটিয়া রয়েছে।
মি. আলী বলছিলেন এখন ভাড়াটে নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে আরো বেশি সচেতন এবং পরিচয় পত্রসহ সব কাগজ তিনি পুলিশের কাছেও সরবরাহ করছেন।
তবে স্মরণ কালের ভয়াবহ সেই জঙ্গি অভিযানের স্মৃতি এখনো অনেক মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
বিবিসি




