Uncategorized

সিংগাইরে প্রতারণাকরে মানসিক ভারসাম্যহীনের জায়গাজমি দখল

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : মানসিক ভারসাম্যহীনকে (পাগল) আশ্রয় দিয়ে ভরণ-পোষন ও চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তার জমি ভোগ দখল ও প্রতারণা করে লিখে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে কথিত চাচাত ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘরে তালা বদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ তালা বদ্ধ ঘর থেকে আনিসকে(৫৫) উদ্ধার করেন। রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সাথে কথাবলে জানা যায়, গাজিন্দা গ্রামের মৃত-চাঁন খানের একমাত্র ছেলে আনিস খান প্রায় ২০ বছর ধরে মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন (পাগল) হয়ে পড়ে। এ সুযোগে প্রতিবেশী রহিম খানের পুত্র কথিত চাচাত ভাই নয়ন খান আনিসকে সুস্থ্য করে তুলবেন মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যান। এর পর থেকে তিনি আনিসের জমি ভোগ দখল করেন এবং তাকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করাতে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় তার ওপর নির্যাতনও চালিয়েছেন বলে স্থানীদের দাবী।
সুত্র জানায়, আনিস খানের পৈর্তৃক সুত্রে পাওয়া চার মৌজায় ৭ দাগে ১০৬ শতাংশ জমি হাতিয়ে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন নয়ন খানগং। একজন ভারসাম্যহীনের জমি কিভাবে হস্তান্তর হয় তানিয়ে ওঠেছে নানা প্রশ্ন। বর্তমানে আনিস খানের একমাত্র ভাগনি সালেহা বেগম ছাড়া বংশধর বলতে তেমন কেউ বেঁচে নেই। তিনি সিংগাইর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে ধল্লা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আলমগীর হোসেন আনিসকে উদ্ধার করে মানসিক ও শারিরীক সুস্থ্যতার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন।
সম্প্রতি আনিসের কাছ থেকে জমি নেয়া নয়ন খানগং ২০ শতাংশ জমি বায়না মুলে বিক্রি করেন। ক্রে তা সাভারস্থ ভাকুর্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন, অ্যাডভোকেট ফজলু ও তাকিম নামের ৩ ব্যক্তি গাছপালা কেটে মাটি ভরাট করতে গেলে এলাকা বাসীর মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসে।
আনিসের ভাগনি সালেহা বেগম বলেন, মামা আমার বাড়িতে ছিলেন। জমি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে নয়ন খান তাকে নিয়ে যায়। মামাকে দিয়ে অনেক কাজ করায়। বেশী কাজ করতে নাপারলে তার ওপর চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। আপনজন আনিসকে নিয়ে যাবে বলে তাকে ঘরে তালা বদ্ধ করে আটকে রাখে।
অভিযুক্ত নয়ন খান বলেন, আনিস আমার চাচাত ভাই। তাকে দেখা শুনা করার জন্য আমি এনেছি। সে আমাকে জমি দিয়েছে। ঘটনার সময় আমরা বাড়িতে ছিলামনা । তার সমস্যা হতে পারে বলে তালাবদ্ধ ঘরে রেখেছিলাম। তিনি নির্যাতনের কথাও অস্বীকার করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ১৫-২০ বছরধরে লোকটাকে পাগলের মতো এলাকায় বিচরণ করতে দেখেছি। তার জমি লিখে নেয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি । ঘটনা তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button