slider

সিংগাইরে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে থাকা বৃদ্ধ হত্যার শিকার , ৪ জনকে আসামি করে মামলা

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি : জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে থাকতে গিয়ে পরেরদিন হত্যার শিকার হয়ে বাড়ির অদূরে ঘাস খেতে মিলল বৃদ্ধের নিথর দেহ। রোববার (২৪ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ধল্লা খান পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে হত্যার শিকার হাজী যদু খান (৭৫) নামের ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেন থানা পুলিশ।
খুন হওয়া হাজী যদু খান ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম খানের পুত্র ও ৪ সন্তানের জনক। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের তিনি খুন হয়েছেন বলে নিহত যদু খানের পরিবারের দাবি ।
এ ঘটনায় সোমবার (২৫ জুলাই) নিহতের ছোট ছেলে আতাউর রহমান খান ওরফে আতাল হক খান বাদী হয়ে সুনির্দিষ্ট ৪ জন এবং অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনকে আসামী করে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, গভর্ণমেন্ট অফিসার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটিড প্রতিপক্ষ লোকজনের কাছ থেকে বিরোধপূর্ণ জমি ক্রয় করে ভেকু দিয়ে মাটি ভরাট করে দখলেন চেষ্টা করেন। এ সময় নিহত হাজী যদু খানসহ তার পরিবারের লোকজন বাঁধা দেন। এতে গভর্ণমেন্ট অফিসার্স মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির পক্ষ থেকে নিহতের ছেলেসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ ও আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করে চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শনিবার রাতে নিহতের ভাতিজা আছান খানকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। নিহতের পরিবারসহ অন্য আসামিদের বাড়িতে গ্রেফতারে অভিযান চালান থানা পুলিশ। রাতেই পুলিশের ভয়ে অন্যত্রে গা-ঢাকা দেন হাজী যদু খানসহ মামলার অন্য আসামিরা। পরদিন রোববার ওই পরিবারের পালিয়ে থাকা অন্য লোকজন বাড়ি ফিরলেও বিকেলে হাজী যদু খানের লাশ মিলে বাড়ির অদূরে উত্তর পাশের ঘাস ক্ষেতে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় খলিল মিয়ার মেয়ে মরিয়ম জানান, দুপুরের দিকে মুখোশধারী ৪ ব্যক্তি লাশটি ফেলে রেখে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন। নিহতের ছোট ছেলে আতাল হক খান বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি প্রতিপক্ষদের দিয়ে আমার বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এ নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করেন তিনি ।
এদিকে, স্থানীয়রা লাশের গলায় ও বাম চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে সিংগ্ইার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মো. আবু হানিফ জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button