Uncategorized

সিংগাইরে অপহরনের পরদিন পাটক্ষেতে মিললো গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিনিধি : অপহরের একদিনের মাথায় মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মুক্তিযোদ্ধা মৃত হারুণুর রশিদ দেওয়ানের ছেলে আমির হোসেন (লালন দেওয়ান) (৩৮) এর লাশ পাওয়া গেলো পাট ক্ষেতে। নিহতের ভাই হাবিবুর রহমান লাশ সনাক্ত করেছেন। লালন দেওয়ান সাভার হেমায়েতপুর এলাকার ব্রিটেনিয়া গার্মেন্টস প্যাকেজিং ফ্যাক্টরীর ( Die Cutting) পদে চাকুরীরত ছিলেন।
এদিকে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতেরর স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় একটি হম্যা মামলা রুজু করেছেন। ওই মামলায় চারজনকে সুনির্দিষ্টসহ আরো অজ্ঞাত ৩/৪কে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন।
সিংগাইর থানা এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, খুনের মোটিভ সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন বন্ধুদের সাথে মাদক সংক্রান্ত বিবাদের জের ধরে আমির হোসেন লালন দেওয়ান খুন হয়েছেন। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তার দাবী নিহত
দেওয়ান আমীর হোসেন দেওয়ান মাদাকাসক্ত ছিলেন। এই হত্যাকান্ডের সাথে নিহতের তিন বন্ধু(মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত)কে খুঁজছে পুলিশ। তবে তারা সবাই খুনের ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
এদিকে নিহতের ভাই হাবিবুর রহমান দেওয়ান দাবী করেছেন, তার ভাইকে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নিজ গ্রাম ঘোনা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারা বিষয়টি সিংগাইর থানা পুলিশকে অবহিত করেছিলেন। তবে কি কারনে অপহরণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। নিহতের ভাই হাবিব দেওয়ানও জানালেন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এরআগে অবশ্য একটি মাদক সংক্রান্ত মামলা ছিলো। তবে সে এখন সাভার হেমায়েতপুর এলাকায় অবস্থিত একটি প্যাকেজিং ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করতেন। সে দুই সন্তানের জনক ছিলেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, তার স্বামী ইতিপূর্বে ব্রিটেনিয়া গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী মাদক ব্যবসায়ী উজ্জলের বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট খোয়া যাওয়ার ঘটনায় তার স্বামীকে (লালন দেওয়ান) সন্দেহ করে বিভিন্ন সময় মেরে ফেলার হুমকি দিতো। এ ঘটনার জের ধরে উজ্জল ও তার ভাই অনিক অপহরণ করে তার স্বামীকে হত্যা করতে পারে বলে তার ধারণা। এর আগে বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়রের কাছে বিচার দিয়েছিলেন বলেও জানান নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম।
সিংগাইর থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খোয়ামুড়ি গ্রামে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আবুল হোসেনের পাটক্ষেতে লাশ দেখতে পায় স্থানীয় কয়েকজন মুজুর ওই লাশটি দেখতে পায় । পরে স্থানীয় সাবেক মেম্বার আবদুল কাদেরকে জানালে তিনি বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাজেদ খানকে অবগত করেন।
চেয়ারম্যান সিংগাইর থানায় খবর দিলে সিংগাইর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন ও এসআই আল মামুন সাড়ে ৭ টায় ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেন। ওই কর্মকর্তা লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সকালেই সিংগাইর সার্কেলের এএসপি মো. আলমগীর হোসেন, থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া ও ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মিয়া সাংবাদিকদের জানান, নিহত লালন দেওয়ানের ঘনিষ্ট বন্ধুদের সাথে মাদক নিয়ে বিরোধের কারনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করার বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে ধারনা হরা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। হত্যার কারণ সর্ম্পকে বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে এসেছে। ঘটনার সাথে জড়িত
অপরাধীদের সাণাক্ত করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি। মতিউর রহমান

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button