সালথায় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের ডিম ও দুধ খাওয়ানো উৎসব পালিত

বিধান মন্ডল, (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের সালথায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ- ২০২৩ইং এর কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম ও দুধ খাওয়ানো উৎসব পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের বাস্তবায়নে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি), প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কাউলিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই দিবস পালন করা হয়। এ সময় অত্র বিদ্যালয়ের মোট ১৬০জন শিক্ষার্থীদেরকে ১টি করে বয়লার ডিম ও ১ গ্লাস করে গভীর দুধ খাওয়ানো হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সালাহউদ্দীন আইয়ূবী।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাহিদুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নিয়ামত হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র চক্রবর্তী, সালথা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্কাস আলী মিয়া, উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব শংকর ব্যানার্জি, উপজেলা প্রাথমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও অত্র বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক সহ, ভিএফএ, এফএ এআই, এলএফএ ও এআইটি কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারগুলির মধ্যে একটি যা আমাদের প্রয়োজনের প্রায় প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের সামান্য পরিমাণ হলেও ধারণ করে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার পাশাপাশি ডিমের রয়েছে আরো অনেক উপকারিতা একটি ডিম থেকে সাধারণত ৭৭ ক্যালরি পাওয়া যায়। যা শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা কমায়। ডিম প্রোটিনের একটি ভালো উৎস যা মাংসপেশি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি’র একটি ভালো খাদ্য উৎস হচ্ছে ডিম। ভিটামিন ডি পেশী ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। ডিমে ফলেট থাকে এটি শিশুর জন্মগত ত্রুটি দূর করতে সহায়তা করে। ডিমের কুসুমে কোলিন থাকে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কোলিন মস্তিষ্কের বিকাশ এবং কার্যক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর দুধের সবটুকুই অপরিহার্য পুষ্টি গুণে ভরপুর। শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত সবারই প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করা উচিৎ। তিনি আরও বলেন, দুধ ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে বিবেচিত। দুধে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, ওমেগা – থ্রী, এছাড়া রয়েছে ওমেগা- সিক্স সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ উৎসের ভিত্তিতে দুধকে বলা হয় সুপার ফুড। এতে রয়েছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ যা শরীরের জন্য অপরিহার্য। এতে প্রচুর পরিমাণ vitamin B-12 রয়েছে, যা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ডিম রিবোফ্লেভিনের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উৎস যা শরীরকে কর্মক্ষম থাকতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে ফসফরাস, যা দেহের টিস্যু এবং কোষ মেরামতের জন্য দারূণ উপকারী। তাই আমাদের প্রত্যেকের দৈনিক খাদ্য তালিকায় ডিম ও দুধ থাকা বাঞ্ছনীয়।




