সাভারে প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

সাভারে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় জোরপূর্বক রিকশা থেকে নামিয়ে নিলা রায় (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান চৌধুরী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই যুবক পলাতক রয়েছেন।
রবিবার রাত ৯টার দিকে সাভার পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়া মহল্লার আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত নিলা রায় মানিকগঞ্জ জেলার শিংগাইর থানার বালিরটেক গ্রামের নারায়ন রায়ের মেয়ে। তিনি পরিবারের সঙ্গে পৌর এলাকার কাজী মোকমাপাড়া মহল্লার শিতল ভিলায় ভাড়া থেকে স্থানীয় আ্যসেড স্কুলের দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান চৌধুরী (২২) একই এলাকার টগর ভিলায় ভাড়া থেকে স্থানীয় কলেজে পড়তেন।
নিহতের পরিবার ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বখাটে মিজানুর রহমান নিলা রায়কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নিলা প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। রবিবার রাত ৯টার দিকে ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাভার গার্লস স্কুলের পাশের গলিতে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা মিজানুর তাদের রিকশার গতিরোধ করেন। পরে জোরপূর্বক নিলা ও তার ভাইকে রিকশা থেকে নামিয়ে এ-৬১/৪ নম্বর নিজেদের পরিত্যক্ত বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিলাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান মিজানুর রহমান।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় স্কুলছাত্রী নিলা রায়কে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত স্কুলছাত্রীর ভাই অলক রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বখাটে মিজানুর রহমান আমার বোনকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। রবিবার রাতে নিলাকে শ্বাসকষ্টের জন্য ডাক্তার দেখিয়ে আসার সময় বখাটে মিজানুর তাকে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে নিজেদের পরিত্যক্ত বাসায় নিয়ে যায় এবং আমাকে তাড়িয়ে দেয়। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও ও ফিরে না আসায় আমি ওই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি মাদকাসক্ত কিছু যুবক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে আহত অবস্থায় আমার বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবক প্রতিদিনই তাদের নিজ মালিকানাধীন পরিত্যক্ত বাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করতেন। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার প্রমাণও মিলেছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী এক ভাড়াটিয়া বলেন, প্রতিদিনই ওই বাড়িতে মাদকের আসর বসে। বিষয়টি থানা পুলিশসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
গত কয়েক বছর আগেও একই জায়গায় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল এবং ওই মামলার আসামি শাকিল বর্তমানে এলাকার এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত মিজানুরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। দেশ রূপান্তর




