সাপ ও ডাকাত আতঙ্কে রাত কাটে ঘিওরের বন্যা কবলিতদের

আব্দুর রাজ্জাক: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় সাপ ও অন্যান্য বিষধর পোকার উপদ্রপ বৃদ্ধিতে পরিবার পরিজন নিয়ে আতঙ্কে সময় পার করছেন ৭ ইউনিয়নের লোকজন। এছাড়াও পয়লা ইউনিয়নের বন্যাকবলিত পাঁচটি গ্রামের মানুষ ডাকাত আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। এসব এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় ট্রলার নিয়্রোয় প্রতিদিন হানা দিচ্ছে ডাকাতরা। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পয়লা ইউনিয়নে তিন/চার বার হানা দিয়েছে ডাকাত দল।
ছোট কুষ্টিয়া গ্রামের মোঃ বাতেন মোল্লা বলেন, ‘এমনিতে বন্যার কারণে উপার্জন কমে গেছে, দু বেলা দুমুঠো খাবার যোগার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামনে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু-ছাগল পালন করছি। কিন্তু আমরা আতঙ্কে আছি কখন আমাদের শেষ সম্পদটুকো ডাকাতেরা লুটে নিয়ে যায়। এ এলাকার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতে আমার বাড়িতে ডাকাতরা হানা দেয়। এসময় বাড়ির লোকজনের ডাক-চিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দল ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর থেকে রাতে ঘুমোতে পারি না।’
পয়লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ বলেন, ‘ডাকাতের বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তার মধ্যে আছি। এ ব্যাপারে থানা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে চারিদিকে পানি আর উঁচু ভিটি, ঝোপ-জঙ্গল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাপ ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ঘিওর উপজেলায়র সাত ইউনিয়নের বানভাসিরা। বেশির ভাগ ঘর-বাড়িতে পানি উঠেছে। অনেকে মাচা করে কিংবা রাস্তার ধারে বসবাস করছেন। তাদের এই চরম দুর্ভোগের সঙ্গে যোগ হয়েছে সাপ ও পোকা-মাকড়ের আতঙ্ক। দিন-রাত চোখে পড়ে বিষধর সাপসহ নানা প্রকার পোকা-মাকড়। সাঁতরে ঘর-বাড়িতে উঠছে। রাত হলে এ আতঙ্ক বেড়ে যায় বহু গুণে।
উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা এলাকার মোঃ জামাল মিয়া জানান, বন্যার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন ঘরে সাপ উঠে আসে! আশেপাশের ভিটা ও জোপ জঙ্গল তলিয়ে যাওয়ায় পোকা-মাকড় আশ্রয় নেওয়ার জন্য ঘরে উঠে আসছে। তরা (মির্জাপুর) গ্রামের কাশেম মিয়া পানির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় সাপ তাকে আক্রমণের চেষ্টা করে। এসময় তিনি সাপের হাত থেকে বাঁচার জন্য দৌড়ে নিরাপদে আসেন। রাধাকান্তপুর এলাকার ফরিদা বেগম নামে আরেক গ্রহবধূ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে অল্পের জন্য গোখরা সাপের হাত থেকে বেঁচে গেছি। রাত হলেই বেশি আতঙ্কে থাকি কখন ঘরে সাপ উঠে আসে।’ এছাড়াও বন্যায় উপজেলায় ১০-১২ ব্যক্তি সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তবে প্রানহানির কোন খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলার সদর, বানিয়াজুরী, বালিয়াখোড়া, সিংজুরী, পয়লা, বড়টিয়া, নালী এলাকার বেশ কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা সাপের হাত থেকে বাঁচার জন্য কার্বলিক এ্যাসিড, ধুপ, নারকেলে ছোবা ও গুড়া সজ মিশিয়ে পুড়িয়ে ঘরে ধোঁয়া দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশনের অতিরিক্ত মহাসচিব ডাঃ মোঃ আবুল হাসান জানান, সাপ থেকে বাঁচার জন্য স্বল্প দামের এক প্রকার কার্বলিক এসিড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, এটি শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।




