সাদা মনের মানুষ অধ্যাপক ইসহাক এখন পত্রিকার হকার

ভালো কাজ ছোট হোক আর বড় হোক, সে কাজে যদি আনন্দ পাওয়া যায়, তবে তাতে বাধা কিসের?’ কথাগুলো বলছিলেন বরিশালের বাবুগঞ্জের আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইসহাক শরীফ।
অবসরের পর থেকেই তিনি পিছিয়ে থাকা জনপদ বা দুর্গম অঞ্চলের মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে এবং পাঠাভ্যাস তৈরিতে পত্রিকা হাতে ছুটে চলেন মাইলের পর মাইল। কখ যানবাহনে, কখনো হেঁটে গ্রাম থেকে গ্রামে, ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে। ৩৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে গত বছরের ১ মে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন ইসহাক শরীফ। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হকারি করে তিনি এক বছর পার করছেন। বিত্তশালী ও কলেজের অধ্যাপক হয়ে এ কাজ করায় বিভিন্ন কটূক্তি করেছেন স্বজনেরা। তবে এতে তিনি থেমে থাকেননি।
বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ইসহাক শরীফের বড় ভাই হাসান আলী শরীফ বাবা আবুল কালামের নামে ১৯৬৯ সালে রাকুদিয়ায় কলেজ স্থাপন করেন। তার পাশেই মায়ের নামে রয়েছে জামেনা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৪৯ সালে জন্ম নেয়া চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ইসহাক শরীফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে মাস্টার্স শেষে বাবুগঞ্জে বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।
ইসহাক শরীফ প্রতিদিন সকাল ৬টায় রহমতপুরের উদ্দেশ্যে বের হন। সেখান থেকে পত্রিকা নিয়ে বাবুগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল হয়ে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়ায় যান। সেখানে পত্রিকা বিক্রি শেষে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে চলে যান বাড়িতে। নিজে বাইসাইকেল চালাতে পারেন না। তবে ছাত্ররা অনেক সময়ই তাকে মোটরসাইকেলে বিভিন্ন গন্তব্যে দিয়ে আসেন। এটাও তার কাছে সম্মানের।
ইসহাক শরীফ বলেন, ‘পাঠাভ্যাস উন্নয়নে পত্রিকার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে পাঠের প্রতি মনোযোগী হওয়া যায়। পত্রিকায় নতুন নতুন খবর প্রতিনিয়ত থাকছেই। জ্ঞান শুধু বইয়ের মধ্যেই থাকে না। জ্ঞান ছড়িয়ে রয়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে। আর জ্ঞানভাণ্ডার বাড়াতে তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্যই পশ্চাৎপদ এলাকায় এই পত্রিকা পৌঁছে দেয়া।পাঠে মনোযোগী হলে নবীনরা বিভ্রান্ত হবে না, মাদক থেকে দূরে থাকবে। পত্রিকায়ও ভালো-মন্দ আছে। বিবেক ভালোকে গ্রহণ করবে আর মন্দকে পরিহার করবে।
তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রায় তিনশ’ পত্রিকা বিক্রি করি, যার মধ্যে ১৫ কিলোমিটারই হেঁটে। এ কাজে কোনো সাইড ইফেক্ট নেই, ফাঁকিবাজি নেই, দুর্নীতির কোনো সম্ভাবনা নেই। সব মিলিয়ে এ কাজ করে ভালোই দিন কাটাচ্ছি। বাকি জীবন এভাবেই কাটাতে চাই।
ইত্তেফাক/




