
করোনারোগীর কাছ নেওয়া সোয়া লাখের বেশি টাকা ফেরত দিয়েছে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার সংশ্লিষ্ট রোগীকে ফোন করে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই রোগীর পরিবারের কাছে এই ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, গত ২৩ মে সাইফুর রহমান নামে করোনারোগী আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পর গতকাল মঙ্গলবার তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। এ সময় হাসপাতালের পক্ষ থেকে ১১ দিনের চিকিৎসার ব্যয় বাবদ তাকে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। এত টাকা বিল দেখে হতভম্ব হয়ে যান তিনি।
বিলের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতাল থেকে তাকে বের হতে দেওয়া হয়নি। গতকাল রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটকা ছিলেন তিনি। পরে দেড় লাখ টাকার ব্যবস্থা করে অনেক অনুরোধ করে ছাড়া পান তিনি। যদিও কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল হওয়ায় কোনো টাকা নেওয়ার কথা নয়।

করোনারোগীকে দেওয়া সেই বিল
বিষয়টি গণমাধ্যম জানতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের টনক নড়ে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার সকালে ওই রোগীকে ফোন করে ডাকা হয়। পরে রোগীর ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম সুমন হাসপাতালে গেলে তাকে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ওই ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করা হয়।
তবে সরকারের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের তালিকায় থাকলেও গত ৩১ মে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই তালিকা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। এ জন্য ওই রোগীর কাছ থেকে ১ ও ২ জুন এই দিনের বিল কেটে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোগী সাইফুর রহমান মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি আইসিইউতে ছিলেন না, কোনো অপারেশন হয়নি। এমনকি তার অক্সিজেনও লাগেনি। মাত্র দুটি এক্সরে ও দুটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি শুধু নাপা ও গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে হাসপাতালের পক্ষ থেকে। বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কেনা হয়েছে। কিন্তু তার পরও বিল এসেছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা।
এদিকে, টাকা ফেরত দেওয়ার পর আজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারকে বলেছে, তারা যেন সবাই বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ওই পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি উল্লিখিত দুই দিনের বিল কেটে রাখা হয়।
টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. ইহতেশামুল হক গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ দেন। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল থেকে ওই করোনারোগীকে যে বিল ধরিয়ে দেওয়া হয় তাতে দেখা যায়, ২ জুন পর্যন্ত চিকিৎসকের খরচ ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৭০০ টাকা, ইনভেস্টিগেশন বিল ১৯ হাজার ৪৭৫ টাকা, হাসপাতাল বিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭০ টাকা, ওষুধের বিল ৫ হাজার ২২৬ টাকা ৮৫ পয়সা। সেইসঙ্গে সার্ভিস চার্জ ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯০৩ টাকা। সব মিলিয়ে মোট বিল আসে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ টাকা।
কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা প্রসঙ্গে ডা. ইহতেশামুল হক জানান, এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, তা গত ৩১ মে থেকে বাতিল করেছেন তারা। এখন থেকে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলবেন। ফলে ওই হাসপাতালে কেউ ভর্তি হলে তাকেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে। আর সে কারণেই উল্লিখিত রোগীর কাছ থেকে দুই দিনের বিল রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ৩১ মে পর্যন্ত যেহেতু তারা সরকারের তালিকায় ছিল সেহেতু ওই দিন পর্যন্ত তাদের সরকারি নিয়মে চলতে হবে। অর্থাৎ করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ওই পর্যন্ত কোনো করোনারোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে না। তবে ৩১ মে তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ১ জুন থেকে চিকিৎসা খরচ নিতে পারবে ওই হাসপাতাল।
উল্লেখ্য, ঢাকায় করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে ১৩টি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালের তালিকায় ছিল আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। গত ১৬ মে ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছিল হাসপাতালটি। নিউজ ২৪।




