
আমির হোসেন সজিব: আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস: বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে আন্দোলন প্রায় এক দশক ধরে চলছে। প্রাথমিকভাবে ২০১২ সাল থেকে ‘৩৫ চাই’ আন্দোলন শুরু হয়, তখন থেকেই হাজার হাজার চাকরিপ্রত্যাশী ৩০ বছরে আটকে পড়া সুযোগের প্রতি প্রশ্ন তোলে। আন্দোলনকারীরা দেখিয়ে দিয়েছেন—শিক্ষাজীবন শেষ হতে, প্রস্তুতি নিতে, পরীক্ষার সুযোগ পেতে তাঁদের সময় সীমাবদ্ধ, এবং সেই সীমাবদ্ধতার সাথে কেবল ৩০ বছর বয়স সার্বিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে না চলে।
৩২ বছরের সীমা এবং মূয়ীদ কমিশনের সুপারিশ:
২০২৪ সালে, অন্তর্বর্তী সরকার ৩০ থেকে ৩২ বছরের সিদ্ধান্ত আনল। কিন্তু এটি আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদী দাবি—৩৫ বছরের স্বীকৃতি—আদৌ পূরণ করে না। আন্দোলনজীবীরা স্বীকার করেন যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাবেক সচিব আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে সেই কমিটি ছেলে প্রার্থীর জন্য ৩৫ বছর ও মেয়ের জন্য ৩৭ বছর করার সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সরকার সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি — বরং সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হলো মাত্র দুই বছর। আন্দোলনকারীরা জোর দিয়ে বলছেন, মূল ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা ন্যায্য সুফল পেতে হলে ৩৫ বছরের দাবি পূরণ করতে হবে, তা না হলে অন্তত ৩ বছরের ব্যাকডেট দিতে হবে।
৪৫ দিনের আমরণ অনশন:
অঞ্চলভেদে আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ‘বয়সসীমা ৩৫’-এর দাবিতে ৪৫ দিনের আমরণ অনশন হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপদেষ্টা বা সরকারস্বরূপ কাউকেই দেখা করতে আসেনি বা তাদের দাবি শোনেননি। এই সময় আন্দোলন থেকে পেছনে সরানো হয়, এবং তাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ:
আগ্রহের বিষয় যে, তখন থেকেই অনেক প্রার্থীর বয়স ৩৩ বা তারও বেশি হয়ে যাচ্ছে—অর্থাৎ নতুন যে “৩৩ বছর করার প্রস্তাব” শোনা যাচ্ছে, সেটি মূল ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর হবে না। যদি এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়, তাহলে কর্মসূচির শুরুতে যারা ৩৩ বা তার বেশি বয়সে চলে গেছেন, তারা সম্পূর্ণ বঞ্চিত থাকবে।
এই দীর্ঘ চলমান আন্দোলনের একমাত্র ন্যায্য সমাপ্তি হবে—ব্যবহারযোগ্য, সময়োপযোগী ও প্রজন্যদক্ষ নীতি গ্রহণ, যেখানে মূল দাবি ৩৫ বছর পূরণ করা হবে; তা না হলে অন্তত ৩ বছরের ব্যাকডেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।




